Alexa বিদ্যুতের খুঁটি যখন গাছ

বিদ্যুতের খুঁটি যখন গাছ

মো. আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫১ ১৮ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির নলছিটিতে খুঁটির পরিবর্তে বিভিন্ন গাছের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল লাইনের সংযোগ দেয়া হয়েছে। অনেক স্থানে জিআই তার দিয়ে টানা হয়েছে এ লাইন। এতে উদ্ভিদসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে পড়েছে।

পৌরশহরের হাসপাতাল সড়ক, বিআইপি কলোনি, সবুজবাগ, মালিপুর, নাঙ্গুলী, বৈচণ্ডি, মাটিভাঙা, সূর্যপাশা, সারদল, নান্দিকাঠি, পোস্ট অফিস এলাকা, দপদপিয়া ইউপির ভরতকাঠি, পূর্ব দপদপিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খুঁটির পরিবর্তে তাল, মেহগনি, চাম্বল ও রেইনট্রি গাছের সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। সেখান থেকে বাড়িতে বাড়িতে দেয়া হয়েছে সংযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খুঁটি না থাকায় বৃষ্টি বা মাঝারি ধরনের বাতাস বইলেই ঘটে দুর্ঘটনা। ফলে দিনের পর দিন বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

গেল বছরের জুলাই মাসে এক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সম্প্রসারণ ও পরিবর্ধন প্রকল্পের’ আওতায় এ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। ছয় মাস মেয়াদি এ প্রকল্পের সময় শেষ হয় ডিসেম্বরে। তবে সময় শেষ হলেও নতুন খুঁটি স্থাপন ও সরবরাহ লাইনের কাজ ৪০ শতাংশও শেষ হয়নি।

ওজোপাডিকোর নলছিটি অফিসের তথ্যমতে, দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজটি খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রকি কনস্ট্রাকশন পেয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন বরিশালের আজাদ ট্রেডিংয়ের মালিক মাসুম মল্লিক। তার গ্রামের বাড়িও নলছিটি।

প্রকল্পের আওতায় ১২ মিটারের ৮১০টি হাই টেনশন (এইচটি) ও নয় মিটারের ৫৫২টি লো-টেনশন (এলটি) পাকা খুঁটি স্থাপনের কথা রয়েছে। এসব খুঁটিতে ১০০ গজ দূরত্বে মার্লিন তার দিয়ে ৪০ কিলোমিটার ও ওয়াসপ তার দিয়ে ৩২ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পৌরশহরের কাজী অফিস মোড় এলাকার বাসিন্দা হক হোসেন বলেন, আমার বাসার আশপাশে ও পার্শ্ববর্তী থানারপুল, বিআইপি কলোনিতে গাছের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের তার রয়েছে। একাধিকবার স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে খুঁটি স্থাপন করে নতুন লাইন দেয়ার অনুরোধ করেছি, তবে কাজ হয়নি।

হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মো. মহাসিন বলেন, আমার ঘরের পাশে একটি গাছের সঙ্গে র‌্যাক দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেয়া হয়েছে। অনেকবার বলেও খুঁটি স্থাপন করাতে পারিনি। ছয় মাস আগে খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। অথচ ঠিকাদার এ এলাকায় এখনো কাজ শুরু করেননি।

নলছিটি ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মো. ফিরোজ সন্যামত বলেন, ঠিকাদারকে অনেক অনুরোধের পরও সময়মতো কাজ শেষ করাতে পারিনি। প্রকল্পের তিন ধাপের কাজের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে।

ঠিকাদার মাসুম মল্লিক বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের কাজ শেষ করতে কমপক্ষে দেড় বছর সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু সময় দেয়া হয়েছে পাঁচ মাস। এর মধ্যে যতটুকু সম্ভব করেছি। নতুন করে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটির অনেক কাজ এখনো বাকি। এ অবস্থায় মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঠিকাদার সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। সময় বাড়ানো হলে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ শেষ হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর