লক্ষ্মীপুরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তছনছ জাতীয় পার্টি

লক্ষ্মীপুরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তছনছ জাতীয় পার্টি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৬ ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৮:৩৫ ৯ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। এমপি  মোহাম্মদ নোমান নির্ভর দলটি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এখন তছনছ হয়ে গেছে। নেতাদের মধ্যে কেউ কাউকে মানছেন না। পার্টির নেতাকর্মী-সমর্থকও এখন হাতে গোনা। তারা প্রকাশ্যে নয়, মনে মনে দলকে সমর্থন করেন।

স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে লক্ষ্মীপুর ২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় ডা. এহসানুল কবির জগলুলকে। পরে জোটগত সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়। তখন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নোমানকে মনোনীত করেন তারা। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নোমান। 

এরপর নোমানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নেতা-কর্মীরা সংঘটিত হতে থাকেন। টিআর, কাবিখাসহ সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ পেয়ে নেতা-কর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে ছিল। তখন অবশ্য সাংগঠনিকভাবে পাকাপোক্ত করা না গেলেও এমপি নোমান নির্ভর ছিল জাতীয় পার্টি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোটগত কারণে ফের জাতীয় পার্টির নোমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। শুরুতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নোমানকে নিয়ে মাঠে নামে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ নোমান উধাও হয়ে যায়।  তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন বিতর্কিত কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল। তিনি আপেল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন। 

অভিযোগ উঠে, পাপুলের থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান নোমান। নির্বাচনে জয়ী হন পাপুল। বর্তমানে মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েত কারাগারে রয়েছেন পাপুল। গত ৬ জুন গ্রেফতার হন তিনি। 

দলীয় সূত্র জানায়, অর্থের লেনদেন করে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় নোমানকে জেলা সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত এএইচএম এরশাদের উপদেষ্টা ছিলেন। সম্প্রতি দলের প্রাথমিক সদস্য থেকেও তাকে (নোমান) বহিষ্কার করা হয়।

জানা গেছে, সবশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমআর মাসুদকে আহ্বায়ক ও মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নতুন কমিটির প্রথম সভা করা হলেও সেখানে সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন না। এরপর নতুন কমিটির নেতারা কেউই আর লক্ষ্মীপুরে আসেননি। 

সাংগঠনিক অবস্থা প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির যুব সংগঠন যুব সংহতির রায়পুর উপজেলার সাবেক সভাপতি সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, এমপি নোমান বিক্রি হয়ে যাওয়ায় কারো কোনো হদিস নেই। এখন সব ছারখার হয়ে গেছে। নোমান এমপি থাকাকালেও ত্যাগী-পরীক্ষিতদের কোনো মূল্যায়ন না করে নতুনদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। এসব কারণে এ পার্টি এখন কেউ করে না।

জেলা জাতীয় পার্টির নেতা শেখ ফায়িজ উল্যা শিপন বলেন, এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতেও জেলা কমিটির কোনো কর্মসূচি ছিল না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কেউ ঘরোয়াভাবে দোয়া অনুষ্ঠান করেছে। কোথাও কমিটির নেতাদের দেখা যায়নি। 

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এআর মাসুদ বলেন, করোনার কারণে সীমিতভাবে আমাদের কার্যক্রম চলছে। পাপুলের কাছে বিক্রি হয়ে দলকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছেন নোমান। এজন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন প্রাথমিক সদস্য পদও তার নেই। আমরা দলকে গুছিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন