Alexa বিজয় অবিরাম

বিজয় অবিরাম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৩৬ ২ জানুয়ারি ২০২০

ড. ফারজানা আলম, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলদেশের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। তার গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র- ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে সমজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ উন্নয়ন।

একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে “The Unexamined life is not worth living”, যে জীবনে নানান ক্রাইসিস আসেনি, ঘাত-প্রতিঘাত জয় করবার অভিজ্ঞতা আসেনি, তা কোন জীবনই নয়, সময় কাটানো মাত্র। তেমনি পৃথিবীতে অল্প কিছু জাতির সৌভাগ্য হয়েছে যুদ্ধ করার, যুদ্ধে জয়ী হয়ে স্বাধীন হবার। 

বাংলাদেশ তাদের মধ্যে একটি। দীর্ঘ নয় মাস দেশের প্রায় প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিক কোননা কোনভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছিল। একজন সামান্য গৃহবধূ বা নগন্য বৃদ্ধ তাদেরও ধ্যানজ্ঞান হয়ে গেছিল পাঞ্চাবী নিধন, যার যা ছিল তাই নিয়ে হয় যুদ্ধ করেছে না হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছে। সেই কারণেই হয়তো পাকিস্থানীরা বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। অনেক সময় ঠাট্টা করে কারো সম্পর্কে বলা হয়, “ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার।” আমাদের যুদ্ধের শুরুটাও কিন্তু প্রায় তাই ছিল। কিছুই ছিলনা আমাদের। কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই পাকিস্থানীদের দ্বারা নিপীড়নের আতিশায্যে বঙ্গবুন্ধুর ৭ই মার্চের কিংবদন্তী ভাষণে ভীষণ রকম উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতিটি যুদ্ধ শুরু করে দেয়। খুব দ্রুত আমরা নিধিরাম সর্দার থেকে তুখোর যোদ্ধা হয়ে উঠি, এক সময় শত্রুরা রণে ভঙ্গ দিয়ে প্রায় পালিয়েই গেল। আমরা উপহার পেলাম স্বাধীনতা, বহুপ্রতিক্ষীত স্বাধীনতা। যে স্বাধীনতার জন্য এই জাতি সর্বস্ব বাজি রেখেছিল!

৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর অনেকেই দেখিনি আমরা। এতো বড় বিজয় আর কখনোই এ দেশে আসবেনা, তাই দেখতেও পাবোনা। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক সাফল্য দেখেছি। আমরা ভীষণ আবেগপ্রবন জাতি। সামান্য ক্রিকেট খেলায় কোন শক্ত প্রতিপক্ষের সাথে জিতলে আমাদের ভেতর আনন্দের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। সেই জাতি যখন নিন্ম আয় থেকে উন্নয়নশীল জাতির পদমর্যাদা পায়, তখন কেমন আনন্দ লাগে বলাই বাহুল্য। তলা বিহীন ঝুড়ি থেকে আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ শুধু নয়, আমরা খাদ্য রপ্তানি করছি। প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হলে পাশের দেশ গুলোকে খাবার পাঠিয়ে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখি। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতিসংঘের ভাষাতেই বাংলাদেশ অনুকরণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বাংলাদেশকে বলা হয় গউএ-এর রোল মডেল। এই আনন্দও কম আনন্দ নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়মিত ভাবেই ৬ শতাংশের উপরে রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে যে দারিদ্রের হার ছিল ৫৬.৭ শতাংশ তা আজ মাত্র ২৪.৩ শতাংশ। শিক্ষার হার ১৯৯১ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ তা ২০১৮ সালে ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৯০ থেকে এখন কমেছে হাজারে ৫৭৪ থেকে ১৩০। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মার মতো প্রমত্ত নদীতে সেতু করছি আমরা। এর চেয়ে খুশির খবর আর কি হতে পারে!

ছোটখাটো ব্যর্থতাকে বাদ দিলে বাংলাদেশের আরো অনেক বিজয় আছে। কোন বিজয়কেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। ৭১-এ ৭ কোটি মানুষের প্রায় সবাই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উঠেছিল। ২০১৯-এ ১৭ কোটি জনগণের সবাই যদি আরেকবার দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আরেকবার দেশ গড়ার শপথ নেন, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি থেকে দূরে থেকে আর একবার দেশকে ভালোবেসে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ বড় করে দেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন, বাংলাদেশের আরেকটি বিজয় ঠেকায় কে!!!

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর