93508 বিজ্ঞানের যুগে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কতটা যৌক্তিক
Best Electronics

বিজ্ঞানের যুগে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কতটা যৌক্তিক

প্রকাশিত: ১৪:২৬ ২৬ মার্চ ২০১৯  

কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

বাংলাদেশ, ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে হোমিওপ্যাথির একটা ভালো কদর আছে। সব দেশেই হোমিওপ্যাথি শিক্ষার জন্য কলেজও রয়েছে। সস্তা এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা হিসেবে জীবনের কোনো না কোনো সময় দেশে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের দ্বারগ্রস্ত হন। কেউ বলেন প্রতিক্রিয়া বিহীনভাবে রোগ সারাতে হোমিওপ্যাথি ওষুধের তুলনা নেই।

কিন্তু  সম্প্রতি রুশ বিজ্ঞান আকাদেমি ঘোষণা করেছে, হোমিয়োপ্যাথি অকেজো ও অবৈজ্ঞানিক। রাশিয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে হোমিয়োপ্যাথিকে নির্বাসনে পাঠানো উচিত। আকাদেমি গড়েছিল এক কমিশন, ভুয়ো বিজ্ঞান পরীক্ষা করে দেখতে। তদন্ত শেষে কমিশনের সুপারিশ: দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং ওষুধ-নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অবিলম্বে জারি করুক নির্দেশ। হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধের গায়ে লেবেল সাঁটা হোক। যাতে লেখা থাকবে, ওষুধের ফলদায়ী ক্ষমতা প্রমাণিত সত্য নয়। তবে রোগীর আস্থা থাকলে তিনি তার ওষুধ কিনে খেতে পারেন। সেটা তার ব্যক্তিস্বাধীনতা। কিন্তু ওই শাস্ত্র যদি দাবি করে যে, সে অভ্রান্ত, তা মানা হবে না।

মাস কয়েক আগে আমেরিকায় ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) প্রকাশ করেছিল এক বিবৃতি। শিরোনাম ‘এনফোর্সমেন্ট পলিসি স্টেটমেন্ট অন মার্কেটিং ক্লেমস ফর ওভার-দ্য-কাউন্টার হোমিয়োপ্যাথিক ড্রাগস’। বক্তব্য? হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধের কার্যকরিতা সম্পর্কে প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর দাবি নির্দ্বিধায় মানা হবে না। অন্য ওষুধের ক্ষেত্রে যে সব মানদণ্ড আছে, সেগুলিতেই বিচার হবে হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধের দাবি। ওষুধ কোম্পানির তরফে যে কোনো দাবির সমর্থনে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ দাখিল করতে হবে। নচেৎ সে দাবি ওষুধের গায়ে লেখা চলবে না।

দুশো বছরেরও বেশি পুরনো ওই চিকিৎসাশাস্ত্রের মূলনীতি: বিষে বিষক্ষয়।  দ্রব্যকে প্রথমে তরলগুলোয় যে দ্রবণ পাওয়া যায়, তাতে ক্রমাগত তরল মিশিয়ে দ্রবণকে পাতলা, আরো পাতলা করে ফেলা হয় । শেষে সেই ভীষণ পাতলা দ্রবণ হয় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ। ফরাসি গবেষক জাক বুভুনিস্ত ১৯৮৮ সালে দাবি করেন, ও রকম লঘু দ্রবণ (যাতে দ্রব্য থাকার কথা নয়) কাজ করছে মানুষের রক্তে শ্বেতরক্তকণিকার ওপর। এই দাবি-সংবলিত পেপার ‘নেচার’ জার্নালে ছাপা হতে চার দিকে হইহই রব। ‘নেচার’ সম্ভ্রান্ত জার্নাল। সেখানে এমন পেপার ছাপা হল! ‘নেচার’-এর তৎকালীন সম্পাদক জন ম্যাডক্স গড়লেন কমিটি। যা ফ্রান্সে বুভুনিস্ত-এর ল্যাবরেটরিতে গিয়ে দেখবে ওঁদের পরীক্ষা। কমিটির সদস্যরা গেলেন। দেখলেন পরীক্ষা। তাদের রায়: বুভুনিস্ত-এর দাবি মিথ্যে। ২০০৭- এ বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’-এ একটি বিশেষ প্রতিবেদন বেরিয়েছে যাতে লেখক জে. গাইল্স হ্যানিম্যানের হোমিও চিকিৎসার মূল পদ্ধতিকে ‘অপবিজ্ঞান’ আখ্যা দিয়েছেন।  হোমিওপ‌্যাথি শুরু করেন স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ..১৭৯৬ সালে। সেসময়ে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর বিরক্ত হয়ে এই বিকল্প পদ্ধতির সূত্রপাত ঘটান। হানেম্যান এই চিকিৎসাকে বিবৃত করলেন  “একই ধরণের পদার্থের সূত্র” হিসেবে। এই সূত্রের মূলনীতি হলো যে, যে পদার্থের উপস্থিতিতে একটি রোগের সূত্রপাত হয়েছে, সেই পদার্থের খুব অল্প পরিমাণ সেই রোগটিকে সারিয়ে তুলবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে  যেখানে কফ বেড়ে গেলে কফ কমানোর ব্যবস্থা করবে, হানেম্যানের এই সূত্র অনুযায়ী উল্টোটা, অর্থাৎ যে কারণে কফ হয়েছে সেটাকে রোগীর সেবন করতে হবে। হ্যানেম্যান এই চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দিলেন হোমিও প্যাথি, গ্রীক শব্দ বন্ধটির অর্থ হোমিওস (একই বা মতো) এবং প্যাথোস (রোগ)। হোমিওপ্যাথির বাংলা করলে তাহলে দাঁড়ায় ‘রোগের-মতো’।

ঊনবিংশ শতকের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় কম বিপদজনক হওয়ায় অনেক চিকিৎসাবিদ হোমিওপ্যাথি অনুশীলন শুরু করেন। বিংশশতকের শুরুতে আমেরিকায় প্রায় ১৪ হাজার হোমিওপ্যাথি অনুশীলনকারী এবং ২২ টি হোমিওপ্যাথি বিদ্যালয় ছিলো। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের এবং শাস্ত্রের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত হোমিওপাথির পতন ঘটে। আমেরিকার হোমিওপ্যাথি বিদ্যালয়গুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে নতুবা আধুনিক চিকিৎসায় পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ হোমিওপ্যাথি বিদ্যালয় বন্ধ হয় ১৯২০ সালে। ১৯৯৭ সালে, লন্ডনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নেয় যে যেহেতু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার পক্ষে যথেষ্ট পরিমান প্রমাণ নেই, তাই তারা এই চিকিৎসা ব্যায়ভার বহন করতে নারাজ।

রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রোগ সারিয়ে তুলতে পারে এটা আমরা জানি। হোমিওপ্যাথিক পদার্থগুলো তৈরি করা হয় সাধারণতঃ খনিজ, ভেষজ কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে। যদি মাদার টিংকচার বা মূল পদার্থটি পানিতে দ্রবীভূত হয় তাহলে এক ভাগ পদার্থ নয় বা নিরাব্বই ভাগ পানি অথবা অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশ্রিত করে প্রবলভাবে ঝাঁকানো হয়। তাতে  ঔষধী গুণ আদৌ থাকে কিনা সন্দেহ আছে। বড়জোর প্লাসিবো হিসেবে এটা কাজ করে। অনেক প্রবক্তারা দাবি করেন যে, হোমিও-টোটকা ভ্যাকসিন বা টিকার মত একটি ব্যাপার, কেননা দুটো ক্ষেত্রেই অল্প একটু অনুপ্রাণনা দেয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাটি নিজেই রোগ সারাতে পারে।

অথচ আমরা নিজেরাও তো দেখেছি মা, বাবাকে, দিদিমা-ঠাকুরমাকে; ছোট্ট ছোট্ট গুলি বা পুরিয়া খেয়ে দিব্যি সেরে উঠতে। কারুর জ্বর, সর্দি ভালো হয়েছে তো কারুর বাচ্চার তোতলামি সেরেছে। আবার কারুর দিদার হাতের আঁচিলের মতো গুটি একেবারে মিলিয়ে গেছে। আমরা জানি না, ওষুধ না খেলে ওগুলো নিজে নিজে সারত কিনা। বা কেউ মিষ্টিগুলি ছাড়াও বাচ্চাকে কাশির সিরাপ, জ্বরের ওষুধ খাওয়াচ্ছিলেন কিনা। তবে আমরা দেখেছি এমার্জেন্সি হলে- যেমন হঠাৎ ধুম জ্বর, মাথা ফাটা, পা ভাঙা ইত্যাদিতে কেউ হোমিওপ্যাথি করার কথা মুখেও আনেন না।

সাইলেসিয়া ২০০ খেলে শোনা যায় গলায় ফুটে থাকা মাছের কাঁটা গলে যায়। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ঘোষ সাইলেসিয়া ২০০ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষণের উদ্দেশ্যে কাঁচের প্লেটে সাইলেসিয়া ২০০ নিয়ে তাতে দিনের পর দিন মাছের একটা ছোট্ট কাঁটা ডুবিয়ে রেখে দেখেছিলেন- কাঁটা যেমনকে তেমনই রইল!

আমাদের সব দৈহিক শক্তির মূলে আছে সঠিক খাওয়া ও ব্যায়াম করা, আর প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া। এর জন্যে শরীরবিজ্ঞানকে জানতেই হবে; অন্য কোন শর্টকাট পথ নেই। এই শরীরবিজ্ঞানের আধুনিকতম প্রয়োগ আজকের এ্যালোপ্যাথি মেডিসিন। ২৫০ বছর আগের অবস্থা থেকে আমাদের জ্ঞান অনেক এগিয়েছে। এখন আমরা জানি শুধু ‘জল’ বা ‘অ্যালকোহল’ এমন কোনো ‘অলৌকিক’ শক্তি ধরে রাখতে পারে না, যা শরীরে কাজ করবে অথচ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ধরা পড়বে না। তাই হোমিওপ্যাথির গোড়াতেই গলদ রয়েছে।  এরপরও প্রশ্ন উঠতে পারে, তবু কেন এত মানুষ ‘হোমিওপ্যাথি’ ঔষধে ভরসা করে?

১. ডাক্তারকে সব জায়গায় পাওয়া যায় না, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে।
২. চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখানো বেশি খরচসাপেক্ষ ব্যাপার।
৩. ডাক্তার অনেক সময় বেশি ডোজের ঔষধ দিচ্ছেন, ভুল ঔষধ, কড়া বা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন।

তারচেয়ে হোমিও চিকিৎসা করা মানে একদম বসে না থেকে কিছু চেষ্টা অন্তত করা হল। আবার এটাও সত্যি যে অ্যালোপ্যাথ এর ওভারডোজ গ্রহণের ফলে রোগী সাংঘাতিক অসুস্থ হয়। অন্য দেশে ডাক্তারদের এমন ভুল প্রেসক্রিপশন প্রদান করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। আমাদের দেশে মামলা করে লাভ হয় না। আর এই জায়গাতেই হোমিওপ্যাথি ‘শূন্যস্থান পূরণ’ করছে।  

বাংলাদেশ ও ভারতে হোমিওপ্যাথির সূচনা হয়েছে ১৮০০ শতকেই এমনটা কয়েকটা ওয়েবসাইটে লেখা পাওয়া যায়। হামদর্দ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বলে দাবী করে। বাংলাদেশে কতজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার আছে সেটা সঠিক ভাবে ইন্টারনেটে পাওয়া না গেলেও, সুত্রাল্লেখ ছাড়াই একটি ওয়েবসাইট এক লক্ষ এবং আরেকটি ওয়েবসাইট দেশের ৪০% ডাক্তারই হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার বলে দাবী করে।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামে সরকারী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ৫ বছর মেয়াদী 'ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি' বিএইচএমএস (BHMS) ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া বাংলাদেশে একটি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এবং ৪৬টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ আছে৮। যে দেশে আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র ৪৫টি, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সব মিলিয়ে ২০টির কম, সে দেশে ৪৬টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রীতিমত লজ্জার বিষয়।

পশ্চিমবঙ্গের হোমিওপ্যাথি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ,ক্যালকাটা হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মেট্রোপলিটান হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ। ভাবা যায়? এখনও এই গঞ্জিকা চিকিৎসার এত রমরমা?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা চললে ক্ষতি কি? ছোটো খাটো রোগের জন্য, যেটা এমনিতে সেরে যেতে পারে সেক্ষেত্রে টাকা খরচ ছাড়া তেমন ক্ষতি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো হোমিওপ্যাথি দাবী করে অনেক জটিল এবং কঠিন রোগের চিকিৎসাও হোমিওপ্যাথি করতে পারে। ১৯৮২ সালে আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিসংখ্যান নিয়ে দেখতে পায় বাজারে হৃদরোগ, কিডনী রোগ, এমনকি ক্যান্সারের হোমিওপ্যাথি-টোটকা বিক্রি হচ্ছে। টারানটুলা নামের এক বিষাক্ত মাকড়সার নির্যাস দিয়ে নাকি মাল্টিপল স্কোলেরোসিস নামের এক মস্তিষ্ক এবং শিড়দাঁড়ার রোগ সারানো যায়, কোবরার বিষ দিয়ে ক্যান্সার। বাংলাদেশের প্রতিদিনকার পত্রিকা খুললেই এই ধরণের বিজ্ঞাপন দেখা যাবে ভুরি ভুরি। ইন্টারনেট ঘেঁটে পেলাম বাংলাদেশে অটিজমের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির প্রচার করছে একটি সংগঠন।

ক্যান্সার রোগটির কথাই বিবেচনা করি। ক্যান্সার রোগটি ভয়াবহতার দিক দিয়ে এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতি একটি রোগ। ক্যান্সার যত আগে ভাগে ধরা যায় এবং চিকিৎসা শুরু করা যায় ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা তত বাড়ে। ওহাইয়ো স্টেইট ইউনিভার্সিটির এক গবেষনায় দেখা গেছে জটিল ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ার দুমাসের মধ্যে চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা শতকরা ৮৫ ভাগ।অ্যাপেল কোম্পানীর সিইও স্টিভ জোবস জড়িবুটি এবং ব্যতিক্রমধর্মী ওষুধের সেবন করে তার রোগ সারাতে চেয়েছিলেন। তার পরিণতি তো আমাদের জানা। হোমিওপ্যাথির পক্ষে প্রচলিত কয়েকটি ‘যুক্তি’ ও বাস্তব চিত্র আলোচনা করা যাক।

যুক্তি ১ - “হোমিওপ্যাথির কোনো সাইড এফেক্ট নেই”
বাস্তব চিত্র - হোমিওপ্যাথি টোটকাগুলো প্লাসিবো বা নকল ঔষধ। কাজেই যার কোনো এফেক্ট নেই তার সাইড এফেক্ট না থাকাই স্বাভাবিক।
যুক্তি ২ - “ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি”
বাস্তব চিত্র - কিছু হোমিও টোটকা ভেষজ উপদান থেকে প্রস্তুত ঠিকই। কিন্তু সব নয়। হাঁসের যকৃত, এক বিষাক্ত মাকড়সার নির্যাস, কোবরার বিষ থেকে প্রস্তুত করা হয় কিছু ওষুধ। কি করে জানবেন কোন ওষুধ কিসের থেকে তৈরি?
যুক্তি ৩ - “অমুকের রোগ সেরে গেছে বা আমার ক্ষেত্রে কাজ করেছে”

বাস্তব চিত্র - প্লাসিবো বা নকল ঔষধের ধর্মটাই এরকম। মানুষের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক শক্তিশালী। তাই অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজেই রোগ সারিয়ে নিতে পারে। নকল ঔষধ শুধু ভরসাটুকু দেয়।

আগামী বাজেটে হোমিওপ্যাথি খাতে ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড। পাশাপাশি বোর্ডের বার্ষিক অনুদান কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা রাখারও প্রস্তাব করেছে তারা।জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটে মোট বরাদ্দ ১২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা হলেও হোমিওপ্যাথি খাতে মোট বরাদ্দ মাত্র ৯ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এদিকে ভারতে হোমিওপ্যাথির প্রচার প্রসার ও শিক্ষাদানের জন্যে বর্তমান অর্থনৈতিক বছরের বাজেট বরাদ্দ ১৩১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ টাকা আসে জনগনের করের পয়সা থেকে। কাজেই সে টাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নামক গাঁজাবিজ্ঞান বা অপবিজ্ঞানের চর্চা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা আজা ভাবার সময় এসেছে।

এত বছর ধরে শিকড় গেঁড়ে বসা হোমিওপ্যাথি বাংলাদেশ বা ভারত থেকে রাতারাতি চলে যাবে না। সরকার প্রথমে গবেষণা মূলক পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করতে পারে। সর্বজন স্বীকৃত গবেষকদের মাধ্যমে সরকার যাচাই করতে পারে আসলেই হোমিওপ্যাথি কাজ করে কিনা। তারপরে প্রথমে সরকারী হোমিও কলেজগুলিকে আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষায় রুপান্তরিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগনকে এ বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রাইভেট চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র গুলিকেও আধুনিক চিকিৎসাদান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মতলবী হোমিওপ্যাথরা অবশ্যই এর প্রতিবাদে মুখর হবেন। কিন্তু বাস্তব তাদের বোঝাতে হবে। বরং ধীরে ধীরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার যোগ্য করে গ্রামে গঞ্জে পুনর্বাসন দিলে তারা আধুনিক চিকিৎসার নান্দীমুখ হয়ে উঠবেন। ফলে আধুনিক চিকিৎসার সাথে সাযুয্য থাকবে প্রারম্ভিক চিকিৎসার।  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics
শিরোনামজঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী শিরোনামপরিবেশ আইন-লঙ্ঘন: উত্তরাঞ্চলের ১৯ ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ হাইকোর্টের শিরোনামকেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে সারা দেশের ফলের বাজারে যৌথ কমিটির তদারকির নির্দেশ হাইকোর্টের শিরোনামরূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আজ শিরোনামবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হজ ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু শিরোনামসংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন জমা দিলেন রুমিন ফারহানা শিরোনামরাঙামাটিতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা শিরোনামচট্টগ্রামে বন্দুকযুদ্ধে ছিনতাইকারী নিহত শিরোনামরাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত শিরোনামআজ ইফতার: সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে