Alexa ‘বিকস্বর কুত্রাপি’ মননের ঘরে ঝুলে থাকা জংধরা তালা খুলে দেয় 

‘বিকস্বর কুত্রাপি’ মননের ঘরে ঝুলে থাকা জংধরা তালা খুলে দেয় 

স্বরলিপি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪২ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫১ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

(কবিতার বুননের নতুন ধারা উন্মোচিত করেছে ‘কুত্রাপি’। স্যাটায়ারধর্মিতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি বাক্য একের অধিক চিন্তায় প্রসারিত হবার যোগ্য। ‘কুত্রাপি’-শব্দের অর্থই হচ্ছে ‘কোথাও’। আর দ্রাবিড় সৈকতের প্রতিটি কুত্রাপিও আমাদেরকে আপতত শেষ হওয়া পথের ভেতর অন্য গন্তব্য খুঁজে দেয়-পৌঁছে দেয়। ‘এই আমার বৃন্দা আঁধার হলো/ চলো পাবোই কিছু ফোকলা ফাঁকা রোদ’। অন্ধকারের ভেতরও যিনি আলোর সম্ভাবনা নিশ্চিত করেন। বলতে গেলে পরিত্যক্ত একটি পথ ধরে হেঁটে চলেন নির্দ্বিধায়। কোকিলকে আমরা যখন সুখের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করি, তখন দ্রাবিড় সৈকত এই প্রতীককে বলেছেন ‘কোকিলের ছাও তোমার ঘরেই আছে পাপ’। আমরা সাহস পেয়ে যাই- অতি সাধু, খুব সুন্দর, আর পরম নির্ভেজালের দিকে প্রশ্নের আঙ্গুল তুলতে।সব পথ হেঁটে যাওয়ার নয়, কোন কোন পথ বোধকে চালান করে দেওয়ার। দ্রাবিড় সৈকত জন মানুষের ভিড়- প্রচলিত বোধের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন কোথাও কোথাও। আমরা তাকে বলতে শুনেছি ‘মানুষ মূলত সাম্প্রদায়িক….চাষাবাদে একীভূত একাকার হয়ে নিজের ইগোরে ভাবে পৃথিবীতে একমুখী একাধারে শুদ্ধ সঠিক’।)

দ্রাবিড় সৈকতের তিনটি কুত্রাপি
৪০৬
মানুষ মূলত সাম্প্রদায়িক
কায়িক শ্রমের পরে সময়ের ফের
ঢেড় ঘাম কাম শুদ্ধির অবসরে মননের বিষ
নিশপিশ করে জ্বলে
হিসহিসি করে চলে সাপের মতন
পাপের ভীতি তার আদিম অসুখী আলোয়ান
পালোয়ানে গোষ্ঠীভাষায় আশায়
বাসা বাঁধে 
চাষাবাদে একীভূত একাকার হয়ে নিজের ইগোরে ভাবে পৃথিবীতে একমুখী 
একাধারে শুদ্ধ সঠিক।
***

৩৮৬
প্রবঞ্চনা এক প্রকার খয়েরি শালিক
লিকলিকে দেহে ডিম দেয়
ঝিম ধরে স্বপ্ন বোনার ছাদে শুকনা পালকের 
বালকের মাতৃসদন
বলকের যাত্রী যা ধন বহনের কথা ভাবে
সকল প্রস্তাবে
পস্তাবে
তা লোকের চমৎকার দীর্ঘশ্বাসবাহী বলবান
বল চান সোনা এদের জয়েরি মালিক!
***
৪০০
তোমরা শহর ভালোবাসো
এখানে জহর ঝলক দেখিয়ে ভোলায়
দোলায় সুতানলী সাপ
গোলায় গুঁতা বলি পাপ
প্রায়শ্চিত্তের পাকা সড়ক সখি জানো না
গানও না গুপ্ত গোমরে গো চারণ ভূমি
তুমি অভাবে আত্মায় অসুখ বাঁধিয়ে হাঁটো
আঁটোসাঁটো জামায় চাপা পড়ে উদ্দাম প্রাপ্তর
মান তোর তাতে বেড়েছে ভীষণ
স্নান শুধু হয়নি সময়ে তাই জ্বর খুশখুশ করে কাশো।

দ্রাবিড় সৈকত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এমএফএ করেছেন। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি লিটল ম্যাগাজিন ‘অর্বাক’-এর সম্পাদক। প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই ‘বয়াংসি চরকায় লাঙল কাব্য’, দ্বিতীয় কবিতার বই ‘কদাচিৎ কুত্রাপি’।
প্রথম কবিতার বইয়ের জন্য পেয়েছেন ‘ব্রাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০১২’-সম্মাননা।

 

Best Electronics
Best Electronics