বিএনপির এমপি এখন মানুষের পাশেও আসে না

বিএনপির এমপি এখন মানুষের পাশেও আসে না

চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ৫ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৬:০৯ ৫ আগস্ট ২০২০

চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচত বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম

চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচত বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসে মাঠ বেশ গরম করেছিলেন। জনগণকে দিয়েছিলেন নানা প্রতিশ্রুতি। ফলে আসনটিতে জয়ও পান। এরপর আর তার কোনো খবর নেই। জনতার কাতারে তো তাকে দেখাই যায় না। কর্মীরা খোঁজ করেও তার সাক্ষাৎ পান না। একাদশ সংসদ নির্বাচনে চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের।

নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, করোনার এ মহামারিতে এমপি আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেননি। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে কীভাবে সহায়তা করা যায় এসব বিষয় নিয়ে তার কোনো পরিকল্পনা বা কর্মকাণ্ড আমাদের চোখে ধরা পড়েনি।

তারা আরো বলেন, করোনাকালে এমপির এমন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা এলাকার নেতাকর্মীকে বিপাকে ফেলেছে। এমন অবস্থায় নেতাকর্মীরা সাধারণ জনগণকে এড়িয়ে চলছেন। এছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির এখানে লেজেগোবরে অবস্থা।

সাধারণ মানুষ বলছেন, ভোটের পর এই দুর্যোগে আমরা এমপিকে পাশে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা না হওয়ায় অনেকেই ভুলে গেছেন এমপি আছেন কি না।

নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গণজোয়ারে হাতছাড়া হয়ে যায় জেলার সবকটি আসন। এরপর থেকে জেলায় জনসমর্থন খোয়াতে থাকে দলটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় বিএনপির। একাদশ সংসদ নির্বাচনে চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচত হন বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম। 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসন পায় বিএনপি। এর মধ্যে নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী আলহাজ আমিনুল ইসলাম। দেশে করোনার প্রকোপ ৮ মার্চ শুরু হয়ে পাঁচ মাস হতে চলল। কিন্তু এই সময়ে এমপি মো. আমিনুল ইসলাম এলাকায় আসেননি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি অন্য দুটি অর্থাৎ গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলাতেও যাননি। এ সময়ে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা তার নামে কয়েক দফা ত্রাণ বিতরণ করলেও সশরীরে এমপি আমিনুলকে এলাকায় দেখা যায়নি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান মো. আমিনুল ইসলাম, এই করোনার সময়ে এলাকায় না আসায় সাধারণ মানুষ বেশ ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। শিবগঞ্জের এমপি শিমুল ডাক্তার ও সদরে সংরক্ষিত আসনের এমপি জেসিকে ঠিকই দেখা গেছে মাঠে এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাইনুল ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলাম যেহেতু এমপি, তিনি এলাকায় থাকলে লোকসমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তিনি এলাকায় আসেননি। পৌর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেকুর রহমান দাবি করেন, এমপি না থাকলেও দলীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। 

তিনি বলেন, ১ম দফায় ৬৭ মেট্রিক টন চাল ৭ হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে এবং পরে ১১ হাজার পরিবারের মাঝে সাড়ে ৭ কেজি করে চাল ও ৫ কেজি আলু বিতরণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এইচএন