বাড়ি থেকে ডেকে এনে তরুণকে হত্যা করেন বাবা-ভাই ও নানা

বাড়ি থেকে ডেকে এনে তরুণকে হত্যা করেন বাবা-ভাই ও নানা

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:৫৪ ১৩ আগস্ট ২০২০  

জামালপুরের এসপির কার্যালয়

জামালপুরের এসপির কার্যালয়

জামালপুর সদরে মাদকাসক্ত এক তরুণকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বাবা, ভাই ও নানাসহ চারজন। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তারা।

নিহতের নাম আল-আমিন। তার বাড়ি শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার তেজারকান্দি গ্রামে। তার বাবা মো. আমিরুল ইসলাম, ভাই মো. আরিফুল ইসলাম, ও নানা আকতারুজ্জামান। এছাড়া মো. রুবেল মিয়া নামে আরো একজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ১ আগস্ট রাতে বাড়ি থেকে জামালপুর সদরের দিগপাইত ইউপির পূর্বপাড়দিঘুলী এলাকায় ডেকে এনে আল-আমিনকে হত্যা করা হয়। পরে একটি ডোবায় তার লাশ ফেলে চলে যায় ওই চারজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের এসপি মো. দেলোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আট বছর ধরে আল-আমিন মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই ঘর থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি ও বিক্রি করতেন। এতে বাধা দিলে মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রায়ই মারধর করতেন আল-আমিন। ছেলের যন্ত্রণায় তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। ঈদের দিন মায়ের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না পেয়ে বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাবা ও ছোট ভাই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আল-আমিনকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান ছোট ভাই আরিফুল। এরপর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে লাশ ডোবায় ফেলে দেন।

এসপি আরো বলেন, ২ আগস্ট পূর্বপাড়দিঘুলী এলাকার ওই ডোবা থেকে ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় জানা যায়। ৩ আগস্ট তার বাবা লাশ শনাক্ত করেন। পরে নিজে বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্‌ঘাটনে পুলিশ মাঠে নামে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার নিহতের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেয়া তথ্যে মঙ্গলবার আক্তারুজ্জামান ও রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। তিনজনেই বুধবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর