Alexa বাড়ির আঙিনায় ক্লাস, মসজিদে পরীক্ষা!

বাড়ির আঙিনায় ক্লাস, মসজিদে পরীক্ষা!

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০৫ ৩০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:০৬ ৩০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে স্কুলভবন। এরপরও খোলা আকাশের নিচেই প্রতিনিয়ত পাঠদান হয়। শিক্ষার্থীরাও খোলা আকাশের নিচে বেঞ্চে বসে শিক্ষা গ্রহণ করে। তবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস হলেও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে মসজিদে। 

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের মোকনা ইউপির গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে একবার এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালের বন্যায় দ্বিতীয় দফায় বিদ্যালয় ভবনটি ধলেশ্বরী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এরপর থেকেই একটি বাড়ির আঙ্গিনায় খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ওই বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন চার শিক্ষক। এছাড়া, তিনটি শ্রেণির পাঠদান একই স্থানে চালানোর কারণে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী কেউই ভালোভাবে কারো কথা শুনতে পায় না। একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের দুরাবস্থার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ২৫শতাংশ জায়গাও স্কুলের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট করা হলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

জানা গেছে, খোলা আকাশের নিচে একটি বাড়ির আঙিনায় স্কুলটির পাঠদান চললেও সম্প্রতি দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে ওই বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা হয়েছে। 

অভিভাবক আব্দুর রহিম, সুরুজ মিয়া, সফদের আলী জানান, ছেলে-মেয়েরা খোলা আকাশের নিচে অন্যের বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ালেখা করছে, এটা খুবই কষ্টের। স্কুলের কোনো ঘর নেই, বসার জায়গা নেই- এ অবস্থায়ই ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। এ সময় তারা দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার বলেন, আমি অন্য কোনো ভাল স্কুলে ভর্তি হবো। এই স্কুলে খোলা আকাশের নিচে পড়তে ভাল লাগে না। ভাল স্কুলে ভর্তি হলে দূরে যেতে হবে, এ স্কুলটি বাড়ির কাছে, তাই এ স্কুলে পড়ছি।  

জিহাদ হাসান নামের এক ছাত্র বলেন, আমাদের স্কুলে বিল্ডিং নেই, খেলার মাঠ নেই। আমরা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করি। আমাদের স্কুলে একটি ভবন ও খেলার মাঠ দাবি করছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পরই বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। তবে ২০১৭ সালে ভাঙনের পর বিদ্যালয়টি পুন:নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজম আলী জানান, বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে চূড়ান্ত মড়েল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়েছে । নতুন বছরের আগে এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ না করা হলে পাঠদান কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। 

নাগরপুরের ইউএনও সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের একটি টিনের ঘর তৈরির জন্য কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ওখানকার কিছু লোক ২৫শতাংশ জায়গা দিয়েছে। সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছে। খুব দ্রুতই বিদ্যালয়ের জন্য একটি অস্থায়ী টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে। নতুন বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ঘরে ওঠতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এমপি আহসানুল হক টিটো জানান, এ বিদ্যালয়ের বিষয়ে তাকে কেউ কিছু জানায় নি। তবে সরেজমিনে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস