বাড়িতে বাড়িতে ফলের চারা নিয়ে হাজির তারা

বাড়িতে বাড়িতে ফলের চারা নিয়ে হাজির তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১২ ৯ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্ষা এলেই এ দেশের জেলায় জেলায়, গ্রামে-গঞ্জে, বাড়িতে বাড়িতে ফলের চারা নিয়ে হাজির হয়ে যায় ফলদ বাংলাদেশ-এর কর্মীরা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

ফলদ বাংলাদেশের অন্যতম সংগঠক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, আমরা কাজ শুরু করেছিলাম স্রেফ মনোবলের জোরে। নিজেরা ঘোষণা করেছিলাম পর্যায়ক্রমে সারাদেশে পাঁচ কোটি ফলের চারা রোপণ করবো। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ বর্ষায় সংগঠনের সদস্য, সচেতন দেশবাসীর কাছে আহ্বান, করোনা-সাবধানতা বজায় রেখে যার যার সাধ্যমত নিজের এবং প্রতিবেশীর বাড়িতে ফল গাছ লাগান।’

এ সময়টা চারা উৎপাদনের শ্রেষ্ট সময় বলে উল্লেখ করে ফলদ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক দ্রাবিড় সৈকত বলেন, আমাদের পরামর্শ ভালো জাতের বীজ অল্প পরিমাণ (পাঁচ ছয় স্কয়ার ফিট) জায়গা প্রস্তুত করে ছড়িয়ে দেয়া, গরু ছাগল  না খেতে পারে এমন ব্যবস্থা নেয়া। এখানে দেড়/দুইশ পাঁচ-ছয় ফিটের চারা পাওয়া যাবে আগামী সিজনে, খরচ বলতে গেলে কিছুই না।’

স্থানীয় পর্যায়ে চারা উৎপাদন করা গেলে ফলদ বাংলাদেশের কাজ আরও সহজ ও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন এ সংগঠক।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে চারা উৎপাদন ব্যায়বহুল এবং পরিবহনের সমস্যা হবে। কিন্তু আঞ্চলিক ব্যাবস্থাপনায় চারা উৎপাদনকে আমরা উৎসাহিত করছি।’

চার-পাঁচ দশকের ক্রমাগত বিদেশী এবং কাঠসর্বস্ব গাছ রোপণের কর্মসূচিকে  ভ্রান্ত বলে মন্তব্য করেন দ্রাবিড় সৈকত। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরেও ‘ফলদ বাংলাদেশ’ এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। 

অধিক হারে ফল গাছ রোপণই পারে জাতীয় পুষ্টি ও অর্থনীতির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা। উল্লেখ্য: দেশের সড়ক, রেলপথ, নদী, খালের দুই পাশ, চা বাগানের পরিত্যক্ত ভূমি এবং টিলা-পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে ১২০ কোটি ফলদ বৃক্ষ লাগিয়ে ১০ বছরে  ফল ও পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করা খুবই সহজ বলে মত দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ল্যাবি এইচ এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. ডব্লিউ জামান। গবেষণায় আরো জানানো হয়েছে, ১২০ কোটি ফলদ বৃক্ষ রোপণের ফলে ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এরই সঙ্গে ৫০-৬০ লাখ টন ফল বিদেশে রফতানি করা যাবে। পশুপাখির আগমণ বাড়বে, সুন্দর হবে পরিবেশ, অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, দেশ হবে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী। সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ ব্যাপারে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এলে এ কাজে সফলতা খুব কঠিন ব্যাপার নয়।

ফলদ গাছ হাতে ‘ফলদ বাংলাদেশ’-এর কর্মীরা 

ফলদ বাংলাদেশের কাজের ধরণ: 
সঞ্জয় ঘোষ জানান, আমরা সাধারণত সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কোনো না কোনো সদস্যের পরিচয়সূত্র ধরে কিংবা সদস্যদের নিজ গ্রামে বা এলাকায় কাজ করে থাকি। একেবারে পূর্বপরিচয় ছাড়াও নতুন এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি ফলগাছ লাগানোর অভিজ্ঞতাও  আছে। তবে এ বছর করোনা মহামারীর কারণে শুরু থেকেই ভাবছিলাম এবারের বর্ষায় ‘ফলদ বাংলাদেশের’ নিয়মিত অভিযানগুলো কী করে করবো! সদস্যরাও ‘লকডাউন’-এর কারণে স্বাভাবিকভাবেই যার যার স্থানে আটকা পড়েছে কিন্তু বর্ষার শুরু থেকেই কিছু সদস্য যখন সাধ্যমত নিজ এলাকায় স্বল্পপরিসরে কাজ করা শুরু করলো, তখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সদস্যরাও স্থানীয়ভাবে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে। ফলদ বাংলাদেশ যেহেতু প্রত্যেক অঞ্চলে স্থানীয় সদস্যদের মাধ্যমে অভিযানগুলো পরিচালনা করে, সেক্ষেত্রে তাদের সামাজিক পরিচিতি সবসময়ই একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে কাজ করে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তাই স্থানীয়দের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সবসময়ের মতই ইতিবাচক সারা পাওয়া গেছে। আর দেশ ও সমাজের ভবিষ্যতের জন্য বিদেশি ক্ষতিকর গাছের বদলে ফলগাছ রোপণ যে সুফল বয়ে আনবে, এ বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তুলে ধরলে যে কোনো পরিস্থিতিতেই বাড়ির লোকেরা নিজ আঙিনায় ফলের চারা রোপণে সানন্দেই এগিয়ে আসে।

‘ফলদ বাংলাদেশে’র এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে: https://www.facebook.com/ফলদ-বাংলাদেশ-অপরাজেয়-বাংলা-471931266224230/

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর