বাড়তে পারে ছুটির মেয়াদ 

বাড়তে পারে ছুটির মেয়াদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৪৯ ৩১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৮ ৩১ মার্চ ২০২০

সাধারণ ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর শাপলা চত্বর এলাকা

সাধারণ ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর শাপলা চত্বর এলাকা

করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ছুটি আরো সপ্তাহ খানেক বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ছুটি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার মনে করছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে ছুটি ভালো ফল দিয়েছে। ৪ তারিখ আসতে আরো কয়েকদিন বাকি আছে। এর মধ্যে পরিস্থিতি বোঝা যাবে। 

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি হয়তো বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র সচিব বলেন, ছুটির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ছুটি বাড়ানো হলে আগামী ২ বা ৩ তারিখের দিকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এর আগে ২৩ মার্চ সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। এর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। গতকাল (২৯ মার্চ) থেকে ২ এপ্রিল পাঁচদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় মোট ১০ দিনের ছুটিতে দেশ।

তবে স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য জরুরি কাজের ক্ষেত্রে ছুটি প্রযোজ্য হবে না। ওষুধ, খাদ্য প্রস্তুত, ক্রয়-বিক্রয়সহ অন্যান্য শিল্পকারখানা, প্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকানপাট নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে। জরুরি পরিবহন যেমন ট্রাক, কার্গো, অ্যাম্বুলেন্স ও সংবাদপত্রবাহী গাড়ি যথারীতি চলবে। খোলা থাকবে হোটেল ও বেকারিগুলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাসের ছোবলে সোমবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। এ সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। প্রতি মিনিটেই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন সাত লাখ ৩৮ হাজার ২৩৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন। আর ১৯ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এস