বাস্তব দুনিয়ার র‌্যাম্বোরা (২য় পর্ব)

সৌমিক অনয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৩ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কাল্পনিক চরিত্র জন র‌্যাম্বো যে কিনা একাই ধ্বংস করেছিলেন একের পর এক শত্রু ক্যাম্প। এমন ওয়ান ম্যান আর্মিদেরকে বাস্তব দুনিয়ার যুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। তাদের নিয়েই এই সিরিজের ২য় পর্বটি- তো জেনে আসা যাক এসকল বাস্তব দুনিয়ার র‌্যাম্বো সম্পর্কে-
জ্যাক চার্চিল  
জ্যাক চার্চিল হলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এক বৃটিশ সৈন্য যে কিনা পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একটি ধারালো তলোয়ার এবং তীর ধনুক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে যখন কিনা সকল সৈন্যই শক্তিশালী রাইফেল কিংবা অটোমেটিক যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন তখন চার্চিল শুধুমাত্র একটি তলোয়ার দিয়ে একের পর এক জার্মান হত্যা করেছিলেন। আর তিনি ১৯৪০ থেকে শুরু করে ১৯৪৫ পর্যন্ত পুরোটাই এই তলোয়ার এবং তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। তার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ফ্রান্সে এবং শেষ হয়েছিল পুরো ইউরোপ শেষ করে যুগস্লোভাকিয়ায়। এমনকি তিনি একবার জার্মানদের কাছে আটকে পরেছিলেন এবং জার্মান প্রিজন ক্যাম্পে বন্দীও ছিলেন। যেখান থেকে তিনি সফলভাবে পালিয়ে পুনরায় যুদ্ধে যোগদান করেন। যুদ্ধের ইতিহাসে শেষবারের মত তলোয়ার এবং তীরধনুক ব্যবহারের রেকর্ডও তারই রয়েছে। 
এড্রিয়ান কার্টোন  
বৃটিশ আর্মির এই অফিসার একমাত্র বৃটিশ অফিসার যে কিনা একে একে দু’টি বিশ্বযুদ্ধ এবং কোরিয়ান যুদ্ধ পুরোটাই অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি তার কতৃত্বের জন্য তিনি বৃটিশ আর্মির ক্যাপ্টেন আমেরিকা নামে পরিচিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনিও সৈন্যদের পাশাপাশি যুদ্ধ করেছেন এবং কয়েকবার গুরুতরভাবে আহত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসে পুনরায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতেই তিনি এক ভয়ানক বিমান দূর্ঘটনার কবলে পড়ে যেখান থেকে তিনি বেঁচে ফিরে আসেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধে তার হাতের কব্জি শত্রুর গুলিতে আহত হলে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন  হন। কিন্তু কোনো ডাক্তার এই ভয়ানক ইঞ্জুরির চিকিৎসা করতে রাজি ছিলেন না। তাই তিনি নিজেই তার এক হাত কেটে ফেলেন। যার কিছুদিন পর যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি একটি চোখ হারান। কিন্তু এতেও তিনি খান্ত হননি বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে একটি চোখ এবং একটি হাত নিয়েই কোরিয়া যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে গেছেন। 
এরিক হার্টম্যান
ওয়ান ম্যান আর্মিরা শুধুমাত্র মিত্র শক্তিতেই ছিল না বরং এদের অবস্থান জার্মান নাৎসি বাহিনীতেও ছিলেন। এরিক হার্টম্যান এমনই এক জার্মান ফাইটার পাইলট যে কিনা ছিলেন আকাশের র‌্যাম্বো। হার্ট্ম্যান ইতিহাসের একমাত্র ফাইটর পাইলট যে কিনা আকাশ যুদ্ধে ৩৫২ বার জয়ী হয়েছিলেন। হার্টম্যান একাধিকবার তার জেট নিয়ে ক্রাশ করেন এবং পুনরায় যুদ্ধে যোগ দেন। এমনকি তিনি একটি রাশিয়ান প্রিজন ক্যাম্পে জেল ও খেটেছিলেন এবং সফলভাবে সেখান থেকে পালিয়ে পুনরায় যুদ্ধে যোগদান করেন। হার্টম্যান যুদ্ধ শেষেও খান্ত হননি বরং তিনি ওয়েস্ট জার্মান বিমানবাহিনীতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাইলট ছিলেন। 
লিও মেজর 
ইতিহাসের একমাত্র সৈন্য লিও মেজর যে কিনা একাই একটি শহর জার্মান বাহিনীর হাত থেকে দখল করেছিলেন। এই কানাডিয়ান যোদ্ধা ডি ডে থেকে তার যুদ্ধ শুরু করেন এবং সেই থেকে শুরু করে পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধের শেষভাগে তিনি তার দল থেকে আলাদা হয়ে যান। তখন লিও একাই যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং একাই জার্মান দখল্কৃত শহর জ্বলিওতে প্রবেশ করে। তিনি একাই তার রাইফেল এবং গ্রেনড নিয়ে শহরের একের পর এক অংশে জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান। জার্মান বাহিনী তার আকস্মিক আক্রমনে এতটাই ভীত হয়ে গিয়েছিল যে প্রায় ৫০ উর্ধ্ব জার্মান সেনা তার কাছে আত্মসমর্পন করেন এবং বাকিরা পালিয়ে যান। এমনকি এই যুদ্ধে তিনি একাধিকবার গুলিবিদ্ধও হন। 
অডি মার্ফি 
অডি মার্ফি তার বীরত্বের জন্য  মার্কিন মিলিটারি  ইতিহাসে সবচেয়ে থেকে বেশি সংখ্যক পদকে ভূষিত হন। অডির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৫ এর নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং এর সঙ্গে। পরবর্তীতে, অডির ব্যাটেলিওয়ন ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে জার্মানদের অধিকৃত ফ্রান্সের শহরগুলো দখল করতে থাকে। অডি তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এস এস সৈন্য হত্যা করেছিলেন। এছাড়াও অডির দল “এসলে” নামক শহরের কাছে এসে ভয়ানকভাবে বিশাল এক জার্মান সৈন্যদলের কাছে অ্যাম্বুস হয়। জার্মানদের তুলনায় অডির দলের অস্ত্র সরঞ্জাম নিতান্তই ছিল। অডি এই পরিস্থিতিতে একাই একটি মেশিনগান নিয়ে জার্মান ট্যাঙ্কগুলোর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন এবং একাই একাধিক ট্যাংক ধ্বংস করেন। এই যুদ্ধে তিনি ভয়ানকভাবে আহত হয়। কিন্তু তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং একাই জার্মান বাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধ করেন। তার এই বীরত্বের কারণে যুদ্ধশেষে পুরো বিশ্বব্যাপী অডি নানা মিলিটারি পদকে ভূষিত হয়।   
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস