Alexa বামন থেকে তিনি দানব হলেন কীভাবে?

বামন থেকে তিনি দানব হলেন কীভাবে?

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৪ ৯ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অবাক করা ঘটনাসমূহ প্রায়শই আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়তই ঘটে। এসকল ঘটনার বেশিরভাগই হয়তো বিজ্ঞান দ্বারা ব্যখ্যা করা সম্ভব। তবে এমনো অনেক ঘটনা রয়েছে যার ব্যখ্যা এখনো অজানা। এমনি এক ঘটনা ঘটে অষ্ট্রিয়ার গ্রাজ শহরে। যেখানে একজন মানুষ বেটে হয়ে জন্মগ্রহন করে। ২৩ বছর পর সে পরিনত হয় দানব আকৃতিতে। তবে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক এই বেটে হয়ে জন্মানো দানব সম্পর্কে-

বামন হিসেবে জন্মানো দানব এডাম রেইনার সম্পর্কে জানার পূর্বে মানুষের গ্রোথ এবং কত বয়স পর্যন্ত মানুষ বড় হয় তা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। কোনো মানুষের গ্রোথ নির্ভর করে তার জিনের উপর। অর্থাৎ বাবা-মা বা বংশের মানুষের উচ্চতা অনুযায়ী যেকোনো সন্তানের উচ্চতা বা বৃদ্ধি হবে। এই বৃদ্ধি একজন সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ১৮ বছরেই শারীরিক গঠন পরিপূর্ণ হয়। তবে বেশিরভাগ পুরুষের ক্ষেত্রেই ১৮ বছর সময় লাগে। কিন্তু এডাম রেইনারের ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক এর উল্টো। এডাম রেইনার ২৩ বছর পর্যন্ত বেটে হিসেবেই বড় হয়। কিন্তু এরপর থেকেই এডাম আশ্চর্যজনকভাবে লম্বা হতে থাকে এবং তার উচ্চতা ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি থেকে হয়ে যায় ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি!

এডাম রেইনারের জন্ম  হয় ১৮৯৯ সালে অস্ট্রিয়ার গারাজ শহরে। তার বাবা মায়ের উচ্চতা ছিল যথাক্রমে ৫ ফুট ৯ এবং ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। এডামের বড় ভাইয়ের উচ্চতা স্বাভাবিক হলেও এডাম জন্ম থেকেই বেটে। ১৮ বছর বয়সে এডাম মিলিটারিতে যোগ দেয়ার জন্য আবেদন করে। কিন্তু উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি হওয়ায় বাদ পরে। পরের বছর আবার চেষ্টা করলেও উচ্চতা একই থাকার কারণে তিনি আবার বাদ পড়ে। কিন্তু মিলিটারি এর রিক্রুটিং অফিসার একটি অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করে। এডামের শরীর ছোটখাট হলেও তার হাত পা সাধারণ মানুষের থেকে বড়। কিন্তু তিনি ব্যাপারপটি এড়িয়ে যায়। 

এডাম রেইনার২৩ বছর পর্যন্ত এডামের উচ্চতা একই থাকে। তবে তার হাত পা অনেক বড় হয়ে যায়। ২২ বছর বয়সে ৪ ফুট ৮ ইঞ্চির এডামের জুতার সাইজ হয় ৫০! কিন্তু ২৩ বছর পার হওয়ার পরে এডামের পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এডাম হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে লম্বা হতে শুরু করে। পরবর্তী ১২ বছরে এডাম প্রায় তার উচ্চতার দ্বিগুনে পরিণত হয়। ৩২ বছর বয়সে এডামের উচ্চতা হয় ৭ ফিট ২ ইঞ্চি! যা যেকোনো সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি।

এডামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে পুরো ইউরোপ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ডাক্তাররা এডামকে পরীক্ষার জন্য আসতে শুরু করে।কিন্তু বেশিরভাগ ডাক্তারই এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পিছনের কারণ বের করতে পারেনি। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এডামই একমাত্র ভিন্ন। তবে অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষার পরে ১৯৩০ সালে ডক্টর ম্যান্ডেল এবং ডক্টর উইন্ডহোলজ এডামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ অনুধাবন করেন। তারা এই বিশেষ রোগকে এক্রোমেগ্রালি নাম দেয়। 

এডামের এই বৃদ্ধির পিছনের কারণ ছিল তার পিটুইটারি গ্রন্থিতে একটি টিউমার। যা এডামের শরীরের গ্রোথ হরমোন এর প্রোডাকশন অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে এডাম লম্বা হতে থাকে। তবে সে শুধু লম্বাই হয় না বরং এডামের দৃষ্টিশক্তিও লোপ পেতে থাকে। এছাড়াও এডাম ধীরে ধীরে বাকশক্তি এবং শ্রবণশক্তিও হারাতে শুরু করে। এই কঠিন সমস্যা সমাধানের জন্য ডাক্তাররে সার্জারীর মাধ্যমে তার টিউমার কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। সার্জারীর পরে এডামের হাত পায়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থামলেও পুরোপুরি শারীরিক বৃদ্ধি থামেনি। এডামের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরো খারাপ হতে থাকে। ৪৮ বছর বয়সে এডাম প্যারালাইজড হয়ে যায়। ৫১ বছর বয়সে এডাম মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুর পূর্বে এডামের উচ্চতা ছিল ৭ ফুট ১০ ইঞ্চি!

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস