বাবার লাশ বাড়িতে রেখে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা কেন্দ্রে জিয়া

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা কেন্দ্রে জিয়া

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৭ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান নামের এক  এসএসসি পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কেন্দ্রে তার আত্মকর্মসংস্থান বিষয়ের পরীক্ষার্থী ছিল। বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তার বাবা মকবুল হোসেন হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে মারা যান। এ খবর শুনে ইউএন সৈয়দ আশরাফুজ্জামান ছুটে যান পরীক্ষা কেন্দ্রে এবং তার খোঁজ খবর নেন এবং উপস্থিত হয়ে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে খাবার খাইয়ে দেন। কক্ষ পরিদর্শকরা সব সময় তার খেয়াল রাখেন।

শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান উপজেলার সদর ইউপির ভবানীপুর গ্রামের দুগ্ধ ব্যবসায়ী মকবুল হোসেনের ছেলে। সে এ বছর উপজেলার অষ্টমনিষা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেডে এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

জিয়াউরের স্বজনরা জানান, বুধবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মকবুল হোসেন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পরই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে লাশ ভাঙ্গুড়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই জিয়াউর কাঁদতে কাঁদতে তার স্বজনদের সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়।

কক্ষ পরিদর্শকরা জানান, জিয়াউর পরীক্ষার হলে মাঝে মধ্যেই কান্না করতে থাকে। তখন তারা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে শান্ত করে। তবে সে পরীক্ষার খাতায় সব সময়ই লেখার চেষ্টা করেছে। বাবা হারানোর বেদনা নিয়ে পরীক্ষা দিলেও সে ভালো ফলাফল করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব অধ্যক্ষ বদরুল আলম বলেন, বাবা হারানোর বেদনা নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হন শিক্ষার্থী জিয়াউর। পরীক্ষার হলে সার্বক্ষণিক তার খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। তাকে খাতায় লিখতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এতে সে ধৈর্য ধরে খাতায় লিখেছে।

ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর খোঁজ খবর নেই। এ সময় জানতে পারি সে সকালের খাবার না খেয়ে এসে পরীক্ষার কক্ষে কাঁদতে কাঁদতে বসেছে। তখন আমি তাকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে অনেক বুঝিয়ে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ