বাবার কোলে চড়েই পার হচ্ছে মনির কৈশোর 

বাবার কোলে চড়েই পার হচ্ছে মনির কৈশোর 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৪২ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: বাবার কোলে ফারজানা আক্তার মনি

ছবি: বাবার কোলে ফারজানা আক্তার মনি

বাবার কোলে চড়ে বাড়ি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের নাগেশ্বরী সদরের আদর্শ পাইলট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ফারজানা আক্তার মনি। পরীক্ষা শেষে আবার বাবার কোলে চড়ে বাড়ি ফিরে আসে সে। 

দৈহিক উচ্চতা মাত্র ৩৩ ইঞ্চি বা পৌনে ৩ ফুট। যে বয়সে দুরন্তপনা, খেলাধুলা এবং ছুটে চলা স্বাভাবিক সে বয়সে অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলাও তার জন্য কষ্টদায়ক। শারীরিক গঠনই হচ্ছে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতিবন্ধকতা। শারীরিক অক্ষমতাকে জয় করে সব প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে কিশোরী ফারজানা আক্তার মনি। 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার কুটি বাঘডাঙ্গা গ্রামের অধিবাসী ফরমান আলী ও রাবেয়া বেগম দম্পতির তিন সন্তান। দুই ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও আশরাফুন আলম এবং একমাত্র মেয়ে মনি। ফরমান আলী ওই উপজেলার নেওয়াশী ইউপির উত্তর পন্তাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

বাবা ফরমান আলী জানান, এ রকম দৈহিক গঠন নিয়ে মনি জন্মগ্রহণ করেছে। অনেক চিকিৎসা করেও তার এই অবস্থার পরিবর্তন করা যায়নি। কারো সাহায্য ছাড়া সে একা চলাফেরা করতে পারে না। মনির সব কাজ করে দেন তার মা। মনির আগ্রহের কারণে তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়।

ফরমান আলী বলেন, আমি এবং আমার দুই ছেলে পালা করে তাকে কোলে করে স্কুলে আনা-নেয়া করি। এভাবেই একের পর এক শ্রেণি অতিক্রম করে এবার বাড়ি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরের গাগলা বালিকা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে। 

লেখাপড়া শেষে একটা চাকরি করে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে চান মনি। 

গাগলা বালিকা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুছ আলী জানান, মনি শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় মোটামুটি ভালো। এসএসসিতে ভালো ফলাফল করবে বলে এমন কথা জানান তিনি। 

এ প্রসঙ্গে নাগেশ্বরী আদর্শ পাইলট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোশারফ হোসেন বলেন, মনি খুব ভালোভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার সফলতা কামনা করছি।    

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস