বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কে দুঃখ ঘুচেছে হাওরবাসীর

বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কে দুঃখ ঘুচেছে হাওরবাসীর

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ১৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৫:৫২ ১৩ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একটা সময় ছিল যখন হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলাকে ভাটি অঞ্চল হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সেই সময় এখন ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ উপজেলাকে সংযুক্তকারী এক সড়ক নির্মাণের ফলেই পাল্টে গেছে ওই এলাকার দৃশ্যপট।

এতে দুঃখ ঘুচেছে দুই উপজেলার লাখ লাখ হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের। সড়কটি নির্মাণের পূর্বে ওই এলাকার সাধারণ জনগণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল ‘হেমন্তে পাও আর বর্ষাকালে নাও’। 

যেখানে জেলা শহরে পৌঁছাতে অন্য উপজেলাগুলো থেকে সময় লাগত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। সেখানে বানিয়াচং থেকে আজমিরীগঞ্জ পৌঁছাতে দিনের প্রায় অর্ধেক সময়ই চলে যেত ওই এলাকার মানুষদের। কিন্তু এখন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে ওই দুটি উপজেলায়।

সাধারণ মানুষের দাবি, স্বাধীনতার পর ৪০ বছরেও যেখানে উন্নয়ন হয়নি সেখানে গত ১০ বছরে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। গড়ে উঠেছে ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। 

সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কটির  নির্মাণ কাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজের একপর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে টানাপোড়েন দেখা দেয় সংশ্লিষ্ট এলজিইডি বিভাগের। বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। পরে যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলায় এলজিইডির পক্ষে রায় গেলে ২০১০ সালে ১ম পর্যায়ে বানিয়াচং থেকে শিবপাশা বাজার পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রস্থ সড়কটির নির্মাণ কাজ ফের শুরু হয়। এতে ব্যয় হয় ১৬ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শিবপাশা বাজার থেকে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়। যার কাজ শেষে হয়ে মানুষ এখন এর সুবিধা ভোগ করছে। এছাড়াও বর্তমানে বানিয়াচং থেকে জলসুখা হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার আরেকটি সড়ক নির্মাণ কাজ এরমধ্যে শেষ হয়েছে। এটি ওই এলাকার মানুষ দ্বিতীয় সড়ক হিসেবে ব্যবহার করছে। 

এদিকে, বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কের উভয় পাশে হাওর থাকায় বর্ষাকালে সড়কটি এখন মিনি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন জেলা শহরসহ আশপাশের গ্রামগুলো থেকে তরুণ-তরুণীরা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে ঘুরতে আসে। বিশেষ করে বিকেলে হাওর যেন তার অপরূপ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে। চারদিকে অথৈ পানি আর প্রাণ জুড়ানো বাতাসে হাওরে ডিঙি নৌকা নিয়ে মেতে উঠেন প্রকৃতি প্রেমীরা। অনেকেই আবার এ সড়কটিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থায়ী পর্যটন হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। 

হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ছাত্র ফরহাদ আহমেদ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে গড়ে উঠা ওই সড়কটি যেন হাওর পাড়ের লাখ লাখ বাসিন্দাদের জন্য আর্শিবাদ হয়ে উঠেছে। রোগীদের নিয়ে পূর্বে যেখানে জেলা শহরে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতো সেখানে এখন অল্প সময়েই যাওয়া যায়।

পর্যটক তাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পূর্বে যে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে চাইত না সে রাস্তায় এখন দিনরাত মানুষের আনাগোনা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে তো আছেই রাতেও সাধারণ মানুষ সড়কে গিয়ে হাওরের বাতাস উপভোগ করে। 

ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ জানান, আগে লঞ্চ দিয়ে ভৈরব থেকে মালপত্র আনতে হতো এখন তা আর আনতে হয় না। সড়কটি নির্মাণের ফলে এখন আজমিরীগঞ্জ থেকে সরাসরি ঢাকায় বাস ও ট্রাক চলাচল করছে। তাই বাস ও ট্রাক দিয়েই সহজে মালামাল আনা যাচ্ছে। এতে একদিকে খরচ যেমন কমেছে অপরদিকে কমছে ভোগান্তি।

কৃষক হারুন মিয়া জানান, এতদিন রাস্তার অভাবে হাওরে জমি করতে ব্যাপক ভোগান্তির সঙ্গে খরচও বেশি ছিল। কিন্তু এখন সহজেই ধান কাটাসহ আনা নেয়া করা যায়। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশহবিগঞ্জ এলজিইডির কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ সড়ক ও বানিয়াচং জলসুখা হয়ে আজমিরীগঞ্জ সড়ক দুটি নির্মাণের ফলে ওই এলাকার সাধারণ লাখো মানুষ এর সুবিধা ভোগ করছে। তারা যেকোনো সময় এখন জেলা শহরের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারছে। জনগণের সুবিধায় হবিগঞ্জ এলজিইডি সবসময় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাশে রয়েছে। 

বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, শুধু বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ সড়কই নয় উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও জন সাধারণের সুবিধার্থে রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম