Alexa বাথরুমগুলোই অসুস্থ, রোগীর অবস্থা কী?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল

বাথরুমগুলোই অসুস্থ, রোগীর অবস্থা কী?

চয়ন বিশ্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৬ ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩২ ১৩ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাথরুমগুলো অপরিষ্কার আর অপরিচ্ছন্নতায় পূর্ণ। মুখ-নাক চেপে যেতে হয় সেখানে। সুইপাররা ঠিক মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় অস্বস্তিতে থাকেন রোগীরা। তাহলে রোগীরা চিকিৎসা পান কেমন? রোগীর স্বজনদের অভিযোগ কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে ৫৭ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৪৭জন। দীর্ঘদিন ধরে দুইজন শিশু বিশেষজ্ঞ, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও একজন অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞের পদ খালি রয়েছে। এ জন্য রোগীদের বেশি টাকা খরচ করে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ১২শ’ থেকে ১৪শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ রোগীকে ভর্তি করা হয়। বেশির ভাগ রোগীকে হাসপাতালের ফ্লোরে থাকতে হয়।

হাসপাতালের সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দালাল। সকাল হতে না হতেই চিহ্নিত দালালরা চলে আসেন কম্পাউন্ডে। তারা গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে ভুলিয়ে নিয়ে যান প্রাইভেট ক্লিনিকে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। তারপরও কমছে না দালালদের দৌরাত্ম। এখানে ছেলে-মেয়ে মিলে ৮০জন দালাল রয়েছে।

অভিযোগ আছে, হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন কর্মচারীও এই দালালদের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া হাসপাতালে রয়েছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম।

জেলা সদর হাসপাতালটিতে রয়েছে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সিন্ডিকেটও। একটি প্রভাবশালী চক্র এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। তারা রোগীদের কাছ থেকে মনগড়া টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে রয়েছে রক্ত ব্যবসায়ীদের একটি চক্র। ২০ থেকে ২৫ জন রক্ত ব্যবসায়ী রোগীদের কাছে চড়া দামে রক্ত বিক্রি করেন। এই রক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে অধিকাংশই মাদকসেবী।

সরজমিনে হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, বাথরুমগুলোর অবস্থা একেবারেই করুন। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে রাতের বেলা হাসপাতালে ভূতুরে অবস্থার সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজন জানান, হাসপাতালের বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। অপরিষ্কার বাথরুম গুলোতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়না। তারা বলেন, হাসপাতাল থেকে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করার কথা থাকলে ১০ থেকে ১২ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তাই তাদেরকে বেশির ভাগ ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়।

দালালের খপ্পরে পড়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের দুলাল মিয়া জানান, তিনি গত ১৪ মে হাসপাতালে আসার পর দালালের খপ্পরে পড়েন। হাসপাতালে ভালো চিকিৎসক নেই বলে দালালরা তাকে একটি বে-সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে দালালের খপ্পর থেকে রক্ষা পান।

একই উপজেলার দুলাল মিয়া জানান, চোখের চিকিৎসা করাতে তিনি হাসপাতালে কয়েকদফা এসেছেন, কিন্তু হাসপাতালে চোখের ডাক্তার না থাকায় তিনি চিকিৎসা করাতে পারেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, হাসপাতালে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। টিকিট কাউন্টারের জায়গা ছোট হওয়ায় রোগীদের টিকিট কাটতে কষ্ট হচ্ছে। প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১০০টি সিজারিয়ান অপারেশন করার দাবি তার। তিনি বলেন, বাথরুমগুলো পুরানো হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বাথরুমগুলো সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ডা. শওকত হোসেন আরো বলেন, বেডের চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় কিছু রোগীকে ফ্লোরে থাকতে হয়। হাসপাতালে আরো ভবন বৃদ্ধি করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর/এস