Alexa বাজেট-প্রত্যাশা

বাজেট-প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ১৮:৩২ ১২ জুন ২০১৯  

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে চলতি অর্থবছরের বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয়বারের বাজেট এটি। তবে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মোস্তফা কামালের প্রথম। 

কোনো সন্দেহ নেই, নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি বিগত পাঁচ বছর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেক্ষেত্রে বলা যায় তিনি ছিলেন অনেকাংশেই সফল। বিশেষ করে সে সময় তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক বড় বড় প্রকল্প নেয়া হয়েছিল; যা এখন ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে নতুন হলেও এসব বিষয় তার কাছে একেবারে নতুন নয়। যদিও বাজেট প্রস্তাব করার বিষয়টি পক্ষান্তরে একটি চ্যালেঞ্জও বটে। কারণ পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে অনেক মেগা প্রকল্প নেয়া হয়েছিল; সেগুলোর বাস্তবায়ন তথা সফল সমাপ্তি নির্ভর করবে এবারের বাজেট বরাদ্ধে। ফলে সেটাও অনেকগুলোর চ্যালেঞ্জের একটি। কেননা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়সীমায় এটা শেষ বাজেট। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম বাজেটের পরিধি ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সময়ের স্রোতে এবং প্রয়োজনে এখন তা দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকায়। এই প্রয়োজন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। কারণ ইতিবাচক অভিপ্রায়ই বাংলাদেশকে বর্তমানের অবস্থানে উন্নীত করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের জিডিপির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রণিধানযোগ্য; যা ইতোমধ্যে বিশ্বের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হয়েছে দৃষ্টান্ত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন পঞ্চম। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের জন্য সবিশেষ গৌরবের। বিশেষ করে পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেল, এমআরটি এবং বিআরটির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। অনেকগুলো প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নও হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতিও দৃশ্যমান।

এতো গেলো সরকারি বিনিয়োগের কথা। শুধু সরকারি বিনিয়োগ করেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বেসরকারি খাতে আরো বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। তাই এবারের বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ীরা যত বেশি বিনিয়োগ করবেন দেশের অর্থনীতি তত বেশি গতিশীল হবে। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে দেশ। এছাড়া বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুদের হার নামিয়ে আনার পাশাপাশি করপোরেট করহারও কিছুটা কমিয়ে আনা হবে বাস্তবানুগ পদক্ষেপ। 

সম্প্রতি ধানের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে। তাই এবারের বাজেটে কৃষকদের জন্য আলাদা করে ভাবতে হবে। প্রতি বছরই উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ ব্যবস্থা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পায় আনুপাতিক হারে। বিপরীতে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত পণ্যের মূল্য পান না। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন কৃষিপণ্যের মূল্য কমতে থাকে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতি কৃষি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাতে করে দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে থাকে। তবে এই বাজেটে কেবল চাষ নয়, কৃষি ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পণ্য রফতানির জন্য ব্যবস্থা এবং পরিকল্পনাকে জোরদার করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে ভাবতে হবে। কারণ দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিখাতের সঙ্গে কোনো না কোনভাবে জড়িত। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে এবার কৃষিখাতকে আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের সামনে এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেটা হলো কর্মসংস্থান। সম্প্রতি ৪০তম বিসিএসে দুই হাজার পদের বিপরীতে প্রায় চার লাখের বেশি চাকরি প্রার্থী অংশ নিয়েছে। এমন তথ্যে স্পষ্ট কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে পদ অপ্রতুল। তাই বেকার যুবকদের কথা আলাদাভাবে মাথায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিও এবার গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা যেতে পারে।   
বাজেটের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভ্যাট। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পর মূল্যস্ফীতি যাতে না বাড়ে সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা প্রয়োজন। ভ্যাট আইনে যাতে কাউকে হয়রানি করা না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি এবং সবাইকে ভ্যাট প্রদানে উৎসাহিত করাও জরুরি। এক্ষেত্রে নিয়ম যত সহজ হবে সেবা যত সুলভ হবে ততই মঙ্গল।

মোদ্দা কথা, দেশের জাতীয় বাজেট হতে হবে কৃষিবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং কর্মসংস্থানমুখী। তবে সরকার বাজেট ঘোষণা করলেই বা বড় বাজেট দিলেই দেশ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাবে তা নয়; বরং এই বাজেট বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই ভূমিকা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণ উভয়পক্ষেরই রয়েছে সমান দায়িত্ব। আর তা সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই সম্ভব অভীষকাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics
Best Electronics