Alexa বাজেটের দিনেই সিগারেট সংকট, মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ!

বাজেটের দিনেই সিগারেট সংকট, মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ!

আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০১ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ২১:০৫ ১৩ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাজেট উপস্থাপনের দিন সকাল থেকেই বাজারে সিগারেট সংকট দেখা দিয়েছে। মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে গেল রাতেই বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট উধাও হয়ে যায়! অভিযোগ পাওয়া গেছে, পাইকার ও এজেন্টরা এসব সিগারেট স্টক করে রেখেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বাজেট অধিবেশনের পূর্বেই ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট যেমন- বেনসন, গোল্ডলিফ, স্টারফিল্ডারসহ সব সিগারেট সরবরাহে সংকট দেখিয়ে স্থানীয় এজেন্টরা সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি করেছে বলেও অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন।

রাজধানীর মিরপুর, বনানী, মহাখালী, গুলিস্তান, উত্তরা, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর থেকেই সব ছোট ছোট দোকানগুলিতে প্রায় সব ধরনের সিগারেটের সংকট। হাতে গোনা কয়েকটা দোকানে ব্র্যান্ড সিগারেট পাওয়া গেলেও দ্বিগুন দামে তা কিনতে হচ্ছে। 

দেখা যায়, বেনসন সিগারেট প্রতি শলাকা নূন্যতম ১৫ থেকে ১৬ টাকা, গোল্ডলিফ ১০ টাকা রাখা হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি ব্র্যান্ডের সিগারেটের মূল্য একই হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ক্রেতা-বিক্রেতায় বাকবিতণ্ডাও দেখা গেছে।

নগরীর ছোট ছোট দোকানদারদের অভিযোগ, বাজেটকে কেন্দ্র করে পাইকাররা সুকৌশলে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সিগারেটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যার ফলে খুচরা দোকানদারদের অনেক ঝামেলার শিকার হতে হচ্ছে।

আব্দুস সোহবান নামের এক ক্ষুদ্র সিগারেট ব্যবসায়ী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রায় প্রতি বছরই বাজেট ঘোঘণার সময় হঠাৎ বাজার থেকে সিগারেট উধাও হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির কিছু অসৎ পাইকার অধিক মুনাফা লাভের জন্য সিগারেট আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে খুচরা দোকানদের উচ্চ মূল্য দিয়ে সিগারেট কিনতে হয়। এ কারণে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রিও করতে হয়।

কামাল উদ্দিন নামে আরেক সিগারেট ব্যবসায়ী বলেন, তার দোকানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ প্যাকেট নামী দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খুচরা বিক্রয় হয়। এছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডের সিগেরেটও বিক্রি হয়। বাজেট ঘোষণার দিন সকাল থেকেই সিগারেটের সংকটে ব্যবসা প্রায় মন্দা। 

তিনি বলেন, কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও প্যাকেট প্রতি নূন্যতম ৩০ টাকা বেশি ধরা হচ্ছে। যে সিগারেটের প্যাকেট বুধবারও ২২০ থেকে ২২৫ টাকায় কিনেছিলাম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা ২৫০ টাকা বা তারও বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

রাসেল নামের এক ধূমপায়ী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বেনসন প্রতিটি সিগারেটের মূল্য ছিল ১২ টাকা করে, কিন্তু আজ বাজেট ঘোঘণার দিনেই ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। কিছুই করার নেই। কম দিতে চাইলে দোকানদার বলে সিগারেট নেই।

সজীব নামের অপর এক ধূমপায়ী বলেন, এক শ্রেণির প্রতারক বাজেটকে কেন্দ্র করে বাজার থেকে সিগারেট উধাও করে নিয়ে গুদামজাত করে রেখেছে। বাজেটের পর তারা অধিক লাভে বাজারজাত করবে। যার ফলে এখন বাজারে সিগারেটের সংকট শুরু হয়েছে। 

তবে সিগারেট কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, বাজারে সিগারেটের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু সিগারেট ব্যবসায়ী প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিগারেট মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

ডেইলি  বাংলাদেশ/জেডআর