বাচ্চাদের দুধ কেনার টাকাও নেই করোনায় চাকরি হারানো মনসুরের

বাচ্চাদের দুধ কেনার টাকাও নেই করোনায় চাকরি হারানো মনসুরের

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:০৫ ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০১:২২ ৯ আগস্ট ২০২০

মনসুর আলী ও তার যমজ সন্তান

মনসুর আলী ও তার যমজ সন্তান

যমজ বোন মদিনা-মরিয়ম। এ বছরের ১৭ এপ্রিল তাদের জন্মের পর মৃত্যু হয় মা আরমিতা বেগমের। সামান্য বেতনের চাকরিতে কন্যাদের নিয়ে কোনোরকমে বেঁচে ছিলেন বাবা মনসুর আলী। সম্প্রতি করোনা মহামারির অজুহাতে চাকরি চলে যাওয়ায় মদিনা-মরিয়মকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন তিনি। টাকার অভাবে মা হারা দুই শিশুর জন্য দুধ কিনতে পারছেন না। ক্ষুধার জ্বালায় সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে সাড়ে তিন মাস বয়সী মেয়ে দুটি।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর (উত্তর) ইউপির মোহাম্মদপুর ফকির বাড়ির হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। এরপর গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসেন মদিনা-মরিয়মের বাবা মনসুর আলী। তিনি শাহরাস্তি উপজেলার শঙ্করপুরের আবদুর রহিমের ছেলে।

মনসুর আলী জানান, বাবার মৃত্যুর পর তিনি নানাবাড়ি হাজীগঞ্জের মোহাম্মদপুরে চলে আসেন। এখানে নানার ছোট ভিটায় ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়ার সহায়তা সরকারিভাবে পাওয়া একটি ঘরে মাকে নিয়ে বসবাস করেন। ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বোনদের বিয়ে দিয়েছেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় বসবাসকারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আরমিতা বেগমকে বিয়ে করেন। সুখেই কাটছিল তাদের জীবন। ১৭ এপ্রিল যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন আরমিতা। ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরো জানান, স্ত্রী হারানোর শোক ও দুই শিশু সন্তানের লালন-পালন একসঙ্গে চালাতে এমনিতেই কষ্ট হচ্ছিল। এরমধ্যে মাত্র সাত হাজার টাকা বেতনের চাকরিটাও চলে গেল করোনার অজুহাতে। নিরুপায় হয়ে মদিনা-মরিয়মকে নিয়ে মায়ের কাছে ফিরে আসেন মনসুর।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনসুর আলী বলেন, সপ্তাহে দুই হাজার টাকার দুধসহ প্রায় মাসে ১০ হাজার টাকা খরচ লাগে বাচ্চা দুটির। একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে মেয়েদের দুধ-ওষুধ নেই। এখন আমি কি করবো? মেয়ে দুটিকে বাঁচাব কী করে?

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর