দূরবীনপ্রথম প্রহর

‘বাংলাদেশ সফর বিশ্বকাপের পূর্ব প্রস্তুতি’

সুমনা আহমেদডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

সম্প্রতি শেষ হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে এক ওয়ানডে ও চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হোয়াইট ওয়াশ হলেও ওয়ানডেতে রুমানা আহমেদের নেতৃত্বে ঘুরে দাড়ায় টাইগ্রেসরা। সদ্য সমাপ্ত এই সিরিজকে পাকিস্তান অধিনায়ক জাভেরিয়া খান দেখছেন আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে। সিরিজ শেষে কক্সবাজারে টিম হোটেলে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হন তিনি। আলাপচারিতায় উঠে আসে পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট, এবং তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ।

ডেইলি বাংলাদেশ : সামনে বিশ্বকাপ, এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ। কেমন প্রস্তুতি হলো?

জাভেরিয়া : এটা খুব ভাল অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ খুব ভাল পারফর্ম করে। তাদের খেলা অনেক ভাল। এখানে এসে আমাদের অনেক ভাল লেগেছে। আর খেলায় অংশগ্রহণ করে অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি আমরা।

ডেইলি বাংলাদেশ : সিরিজ চলাকালীন সময় কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি। মাঠের খেলায় এটি কতটুকু প্রভাব ফেলেছে?

জাভেরিয়া : রোদ আবার বৃষ্টি উপভোগ করার মতো আবহাওয়া। তবে আমরা সেটি করতে পারিনি। এই রকম গরম আবহাওয়ায় খেলা অনেক কঠিন। তবে আমাদের প্লেয়ারদের ফিটনেস অনেক ভাল ছিল এবং প্রশিক্ষকরা অনেক পরিশ্রম করেছেন। এটা অনেক ভাল ও সন্তুষ্টজনক ছিল যে, কেউ ইনজুরিতে পড়েনি। যদিও ইনজুরির প্রবণতা ছিল। তবে প্রশিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে মেয়েদের ভাল রেখেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ : পাকিস্তানের সমাজ অনেক রক্ষণশীল। সেখান থেকে আপনাদের ক্রিকেটে আসা কীভাবে?

জাভেরিয়া : আমাদের মা-বাবারা তাদের মেয়েদের এগিয়ে আসতে সহযোগীতা করেছেন। অনেক এলাকা থেকে মেয়েরা খেলতে আসছে। সম্প্রতি দেখছি ছোট ছোট মেয়েরা ক্রিকেট খেলতে আসছে। তাদের মা-বাবারাও এতে সমর্থন দিচ্ছেন। কারণ আমরা একবার এশিয়া কাপ জয় করেছি। তাই মেয়েদের আগ্রহ বাড়ছে। মেয়েদের ক্রিকেট টিভিতে খুব একটা দেখানো হয়না। তবে গণমাধ্যম মেয়েদের ক্রিকেট এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে। মিডিয়া আমাদের বিষয়ে খবর প্রকাশ করে এবং এতে এই খেলার প্রতি মেয়েদের আগ্রহ বা আকর্ষণ বাড়ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ : ক্রিকেট খেলতে এসে কী কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন?

জাভেরিয়া : না, আমি কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। যদিও আমার সমাজের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি তবুও একটি মেয়ের ক্ষেত্রে এই পর্যায়ে আসা একটু কঠিন। তবে আমার মা-বাবা অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাদের দেওয়া সাহস আজকে আমাকে এখানে খেলতে সাহায্য করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ : অধিনায়ক হিসেবে আপনার লক্ষ্য কী? র‍্যাংকিংয়ে উপরে উঠতে কী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন?

জাভেরিয়া : এই মুহূর্তে আমাদের টিমে অনেক উদীয়মান ক্রিকেটার আছেন। বিসমাহ (বিসমাহ মারুফ) ছাড়া একটু সমস্যা হচ্ছে-যেহেতু সে আমাদের দলের মেরুদণ্ড। সে ফিরে আসলে আমাদের দল ভাল অবস্থানে ফিরে আসবে। সব মেয়েরা অনেক ভাল করছে। কিন্তু এই সময়ে তাদের অনেকেরই অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। তাদের উচিত আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এতে আমরা শীর্ষ দল হতে পারব।

ডেইলি বাংলাদেশ : বিসমাহ মারুফের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি এই সিরিজে খেলতে আসেননি কেন?

জাভেরিয়া : তার একটি সার্জারি হয়েছে। সে এখনো সম্পুর্ণ সুস্থ না। চিকিৎসা নিচ্ছে। তার সময় প্রয়োজন। সেখান থেকে রিকভার করতে তার সময় লাগবে। তবে সে মালয়েশিয়ায় ক্যাম্পে যোগ দেবে বলে আশা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ : বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি কেমন নিয়েছেন?

জাভেরিয়া : ভাল প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ একটি ভাল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এখানে অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচ হয়েছে। আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো আমরা অপরিপক্ক। আমরা সবাই মিলে ভাল পারফর্ম করার চেষ্টা করব।

ডেইলি বাংলাদেশ : বাংলাদেশের মানুষ ও পরিবেশ কেমন লাগল?

জাভেরিয়া : এখানের মানুষ অসাধারণ। তারা ক্রিকেট অনেক ভালবাসেন এবং প্রশংসাও করেন। তাদের কাছ থেকে অনেক সম্মান পেয়েছি। আর এখানকার পরিবেশ অনেক উপভোগও করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ : ২০১০ ও ২০১৪ এশিয়ান গেমসে আপনারা গোল্ড মেডেল জিতেছিলেন। বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে ওই দুই পেদক থেকে কী অনুপ্রেরণা পাবেন?

জাভেরিয়া : এশিয়ান গেমস ও বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্বকাপ অনেক বড় প্লাটফর্ম। আমরা বড় বড় দলের সঙ্গে অনেক ভাল করেছি। আমাদের হয়তো অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। এটি কাটিয়ে ওঠা যাবে। সঙ্গে খেলায় দখল ও চাপ সামলে ওঠার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাহলে বিশ্বকাপে আমরা ভালকিছু করতে পারব।

ডেইলি বাংলাদেশ : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

জাভেরিয়া: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস

daily-bd-hrch_cat_news-9-10