বাংলাদেশে কোন রঙের পাসপোর্ট কার জন্য জানেন কি?

বাংলাদেশে কোন রঙের পাসপোর্ট কার জন্য জানেন কি?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৫ ৯ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২২:১৭ ২৫ আগস্ট ২০২০

পাসপোর্ট

পাসপোর্ট

এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ বা জরুরি কাজে যেতে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট ছাড়া অন্য দেশে ভ্রমণ সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ পাসপোর্টধারী রয়েছে। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে পূর্ণাঙ্গ রূপে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে বাংলাদেশে মূলত তিন রঙের পাসপোর্ট চালু হয়, যা মূলত তিনটি ভিন্ন ধরণ ও নির্দেশকারী প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

বাংলাদেশে তিন রঙের পাসপোর্ট থাকলেও বিশ্বজুড়ে চার রঙের পাসপোর্ট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- লাল, সবুজ, নীল ও কালো। এই চার রঙের বাইরে মূলত পাসপোর্টের রঙ হয় না। 

প্রতিটি দেশকে ডিজাইনসহ বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে পাসপোর্ট তৈরি করতে হয়। এর মধ্যে পাসপোর্টের কাভারে এমন উপাদান থাকতে হবে, যেটি ভাঁজ করলেও কোনো দাগ পড়বে না। এছাড়া বিশেষ মেশিনে ১৪ থেকে ১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ আর্দ্রতার ভেতর পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে।

‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন’ (ICAO) জানায়, প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব টাইপ ফেস, টাইপ সাইজ ও ফন্ট অনুযায়ী পাসপোর্টের ডিজাইন করে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, শুরুতে তিন ধরনের পাসপোর্ট ছিল। সেগুলো হচ্ছে- অর্ডিনারি বা সাধারণ পাসপোর্ট, স্পেশাল বা বিশেষ পাসপোর্ট এবং ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট। বিশেষ পাসপোর্ট কেবল মাত্র ভারতে যাওয়ার জন্য ইস্যু করা হতো বলে সেটি ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট নামেও পরিচিত ছিল।

২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টের রঙ ছিল সবুজ, আর কূটনৈতিক পাসপোর্টের রঙ ছিল লাল। এছাড়া ইন্ডিয়ান পাসপোর্টের রঙও ছিল লাল। তবে সেটি কূটনৈতিক পাসপোর্টের চেয়ে কিছুটা আলাদা রঙের।

২০১০ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব পাসপোর্ট হাতে লেখা ছিল। ২০১০ সালে দ্য ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি চালু করা হলে বিশেষ পাসপোর্ট বা কেবল ভারতে যাওয়ার পাসপোর্ট বিলুপ্ত করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের রঙে ভিন্নতা থাকলেও ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনে’র কাছ থেকে পাসপোর্টের রঙ আর নকশার ছাড়পত্র নিতে হয়।

বাংলাদেশে সাধারণত সবার জন্য সবুজ রঙের পাসপোর্ট চালু থাকলেও দেশে আরো দুটি রঙ অর্থাৎ নীল ও লাল রঙের পাসপোর্ট চালু রয়েছে। চলুন এবার জেনে নেই কাদের জন্য কোন রঙের পাসপোর্ট- 

সবুজ পাসপোর্ট

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক সাঈদ বলেন, সবুজ পাসপোর্টকে বলা হয় অর্ডিনারি পাসপোর্ট। এ পাসপোর্ট হচ্ছে বাংলাদেশের সব সাধারণ নাগরিক ও সরকারি চাকরিজীবীর জন্য। এক্ষেত্রে জন্মসূত্র বা বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের সব নাগরিক সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করবেন। সবুজ পাসপোর্টে বিদেশে গমনের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার প্রয়োজন হয়।

নীল পাসপোর্ট

নীল রঙের পাসপোর্টকে বলা হয় অফিসিয়াল বা দাফতরিক পাসপোর্ট। সরকারি কাজে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে হলে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করা হয়। এই পাসপোর্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসের অনুমোদন বা গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) প্রয়োজন হয়। এই নীল পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা অন্তত ২৭টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ সাঈদ আরো বলেন, ২০১০ সালের আগে এই নীল পাসপোর্ট ছিল না। ওই বছর পর্যন্ত সবুজ পাসপোর্টের মধ্যেই হাতে লিখে সরকারি অনুমোদন দেয়া হতো।

তবে দাফতরিক কাজ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীরা বিদেশ গমন করলে নীল পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারতেন না।

লাল পাসপোর্ট

লাল পাসপোর্টকে বলা হয় ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট পাবেন রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য ও তাদের স্পাউস অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী। সেই সঙ্গে উচ্চতর আদালতের বিচারপতিগণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রধান, মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ ও বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তারা লাল পাসপোর্ট পান।

লাল পাসপোর্ট যাদের আছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য কোনো ভিসা প্রয়োজন হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবতরণের পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা পান। ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট সব দেশেই লাল রঙের হয়ে থাকে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ/এমকেএ