Alexa বাংলাদেশি অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

বাংলাদেশি অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৯ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:২৩ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যসভায় পেশ করা হলো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এই বিলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার বিলটি পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিল নিয়ে আলোচনার শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, আজ আমি এই হাউজ ফ্লোর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কেননা তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘিষ্ঠের প্রতি একটিও নৃশংসতার ঘটনা ঘটেনি।

শাহ ‘সিটজেন অ্যামেন্টমেন্ট বিল-২০১৯’ নিয়ে সুর্দীঘ ৯ ঘণ্টা বির্তক চলাকালে বিরোধীদের সমালোচনার প্রতিত্তোর দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকার বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ সময় তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি বেশকিছু নৃশংসতার তালিকাও তুলে ধরেন।

সোমবার রাতে ভারতীয় লোকসভায় বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও তর্কবিতর্কের মধ্যেই ৩১১-৮০ ভোটের ব্যবধানে দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (এনআরসি) পাস হয়। এবার বিতর্কিত এই বিলটিকে রাজ্যসভায় উত্থাপন করা হবে। এখানে পাস হলেই বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে আইনে পরিণত হবে।

এনআরসি ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুর হার কমেছে। হতে পারে তারা নিহত বা ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এদেশে আশ্রয় নেয়া মানুষদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ক্যাবের ফলে এই ধরনের লক্ষাধিক মানুষের সুবিধা হবে।

এই বিলের কারণে ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এই আইন নিয়ে কারো উদ্বেগ থাকলে, তা আমলে নেয়া হবে। আগামী নির্বাচনের আগেই এই আইন বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন মহলে এই আইন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজ্যসভায় কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মা বলেন, এই বিল দেশের সংবিধানের ভিত্তির ওপর আঘত। যে বিল আপনারা পেশ করেছেন তা ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। বিল সংবিধান ও গণতন্ত্র বিরোধী। নৈতিকতার বিচারে এই বিল মেনে নেয়া যায় না।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধীতায় রাজ্যসভায় সরব হন তৃণমূলের ডেরেক ও ব্রায়েন। ক্যাবকে ‘বাঙালি ও সংবিধান বিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে ক্যাব ও এনআরসি লাগু করতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি। জেডিইউ, বিজেডি ক্যাবের সপক্ষে লোকসভায় ভোট দিয়েছে। রাজ্যসভায় তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেন তৃণমূল সাংসদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ