Alexa বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে যুবককে নির্মম নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে যুবককে নির্মম নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:১৯ ২১ নভেম্বর ২০১৯  

ভিডিও থেকে নেয়া

ভিডিও থেকে নেয়া

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিচারের নামে এক যুবককে বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। ২৫ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়- টুপি মাথায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ৩৪/৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। বাড়ির উঠানে গোল হয়ে এ দৃশ্য দেখছেন বেশ কয়েকজন। 

নির্যাতনের শিকার ওই যুবক চিৎকার করে কাঁদছেন আর বলছেন ‘ভাই ছেড়ে দেন আর মাইরেন না আমি মরে যাব।’ কিন্তু নির্যাতনকারী থামছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্যাতনকারী জকিগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কাজলশাহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম। বিচারের নামে আটগ্রাম গুচ্ছগ্রামের আফজাল নামের ওই যুবককে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছেন। 

নির্যাতনের ভিডিওটি এরইমধ্যে পুলিশের হাতেও পৌঁছেছে। ভিডিওটি গত মঙ্গলবার ‘এসবিডিটিভি’ sbdtv নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে। 

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘এই হচ্ছে জকিগঞ্জের বহুল আলোচিত, নারী কেলেঙ্কারী, মাদকসহ বহু অপকর্মের গডফাদার। সে নাকি চ্যালেঞ্জ করে জকিঞ্জের থানা পুলিশ তাকে কোনোদিন গ্রেফতার করবে না। সত্যিই তার কাছে ইয়াবা পাওয়ার পরও গ্রেফতার করেনি জকিগঞ্জ থানার সাবেক এক ওসি। এই হল আব্দুস সালাম (ফকির মস্তান), মধ্যযুগীয় কায়দায় মানুষের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের চিত্র!’

বুধবার রাতে ভিডিওটিতে মন্তব্য করেছেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। ‘sp sylhet’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি আজই আমাদের নজরে এসেছে। আমরা শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে দায়ী ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেছেন।

সিলেটের এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি কয়েক মাস আগের। এরইমধ্যেই নির্যাতিত ব্যক্তি আফজালকে খবর দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে অভিযোগ নিয়েই নির্যাতনকারী আব্দুস সালামকে গ্রেফতারে অভিযানে নামা হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

তিনি জানান, আব্দুল সালামের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ নভেম্বর আরো একটি অভিযোগ এসেছে। যাতে বলা হয়েছে আব্দুস সালামের বিচারের নামে অপমান নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় আব্দুল মান্নান নামে একজন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এ অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। এরমধ্যেই এ ভিডিওটি পাওয়া গেছে। তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই