বাঁশেই প্রথম শহিদ মিনার 

বাঁশেই প্রথম শহিদ মিনার 

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৯ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের জন্য মাগুরায় একাধিক স্থানে প্রথম শহিদ মিনার তৈরি করা হয় বাঁশ দিয়ে। ঢাকার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী এ শহিদ মিনার তৈরি করা হয়।

স্থানগুলো ছিল তৎকালীন মাগুরা মহকুমা শহরের ইসলামী ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, শ্রীপুরের এমসি পাইলট স্কুল, একই উপজেলার নাকোল রায়চরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শালিখার আড়পাড়া স্কুল, মহম্মদপুরের বিনোদপুর বসন্ত কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় । 

তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জলিল খান, আব্দুর রহিম জোয়ারদার, নাসিরুল ইসলাম আবু মিয়া, আমিনুল ইসলাম চান্দু মিয়া, আজিম দেওয়ান, মোল্লা নবুয়ত আলী, গোলাম রব্বানীসহ অন্য ছাত্রনেতারা এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

একুশের প্রত্যুষে তারা নিজ নিজ এলাকায় বাঁশের তৈরি শহিদ মিনার তৈরি করেন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সে সময় মাগুরার এ ছাত্র নেতাদের নানা কার্যক্রম সমন্বয় করতেন শ্রীপুরের নাকোল গ্রামের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা মির্জা শওকত। ঢাকা থেকে একাধিকবার মাগুরাতে এসে তিনি ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ছাত্রদের সংগঠিত করতেন । 

মাগুরার প্রয়াত ভাষা সৈনিক শ্রীপুরের নাকোল রায়চরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র হামিদুজ্জামান এহিয়ার ছেলে কবি ও কলামিস্ট সাগর জামান এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

সাগর জামানের বাবা হামিদুজ্জামান এহিয়াকে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ১৯৫৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে বেলুচ আর্মি। সে সময় তিনি ছিলেন নাকোল রায়চরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। প্রায় একই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন শ্রীপুরের আরেক স্কুলছাত্র মোল্লা নবুয়ত আলী । 

মাগুরার ইতিহাস গবেষক তাসুকুজ্জামানসহ অন্যদের তথ্য দেয়া তথ্য মতে, মাগুরায় প্রথম কংক্রিটের শহিদ মিনার নির্মাণ হয় ১৯৫৪ সালে মাগুরার তৎকালীন ইসলামী ইন্টারমিডিয়েট (বর্তমান সরকারি হোসেনসোহরাওয়াদি ) কলেজ চত্বরে। এটি নির্মাণে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা মাগুরা পারন্দুয়ালি গ্রামের গোলাম মওলা। স্থানটি ছিল বর্তমান সরকারি কলেজের উত্তর পূর্বকোণে। কিন্তু রাতের আঁধারে এটি দুর্বৃত্তরা ভেঙে দেয়।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি মুন্সী রেজাউল হক জানান, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী কলেজের যে স্থানে জেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার স্থাপিত তার দক্ষিণ দিকে ১৯৬৮ সালে আরো একটি শহিদ মিনার নির্মিত হয়। এ কলেজের তৎকালীন ছাত্রসংসদ নেতাদের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল এটি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ