বাঁধ ভেঙে ভেসে গেল বিধবার স্বপ্ন 

বাঁধ ভেঙে ভেসে গেল বিধবার স্বপ্ন 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৮ ৩১ মে ২০২০   আপডেট: ২১:১৪ ২৪ জুন ২০২০

বিধবা রঞ্জিদার স্বপ্ন ডুবে গেল পানিতে

বিধবা রঞ্জিদার স্বপ্ন ডুবে গেল পানিতে

কথা ছিল স্বপ্নের মত লালিত পাকা ধান ঘরে উঠলে ছেলে মেয়ে নিয়ে সারা বছর খেয়ে পরে বেঁচে থাকবেন বিধবা রঞ্জিদা। কথা ছিল কয়েক মাসের সাধনায় অনেক ঘামে তিল তিল করে তৈরি করা সোনালি ধান ঘরে তুলে নতুন ফসলের উৎসবে শামিল হবেন কৃষক মহাম। কিন্তু কৃষকের সমস্ত স্বপ্ন বাঁধ ভাঙা থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে দিল আগাম বর্ষা। 

উজানে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল আর অর্তি বর্ষণে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নন্দলালপুর হুরাসাগর নদীর ওপর নির্মিত ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বাঁধ ভাঙার পর পানির প্রবল চাপে বিলের পাকা ধান প্রায় বিশ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। অপরদিকে বিলের ওপর দিগন্ত জোড়া পাকা ধানের ক্ষেতে বুক পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে সব। কারো কারো ধান কেটে মাড়াই করার পর ওখানেই রেখে দেয়ায় সেগুলোও পানির স্রোতে হারিয়ে গেছে। 

হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে জমিতে অনেক পানি হওয়ায় কৃষকেরা ধান কাটতে পারছেন না। একদিকে থৈ থৈ পানি অন্যদিকে লোকবল না থাকায় কৃষকের সোনালী স্বপ্ন পানিতেই হাবুডুবু খাচ্ছে। এতে করে দু-একদিন পরে পাকা ধানে পচন ধরে যেতে পারে। যে কারণে কৃষকের ফসলি জমির ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। অথচ এ বছর ফলন ভাল হাওয়ায় কৃষকেরা স্বপ্ন দেখছিলেন বাম্পার ফলন ঘরে তুলবেন। কিন্তু ধান পাকার আগেই হঠাৎ করে উজানে সৃষ্ট  বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল চাপে বাঁধ ভেঙে চোখের সামইে কৃষকের সেই স্বপ্ন তলিয়ে যায়।

পাকা ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে বুক পর্যন্ত পানিতে

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামের  হুরাসাগর নদীর তীর ঘেষে বিশাল ফসলের মাঠ হঠাৎ বর্ষার অথৈ পানিতে ডুবে আছে। জমিতে নৌকা নিয়ে ২-৩ ফুট পানির মধ্যে ধান কাটছেন কেউ কেউ। এছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেতের কাঁচা ধান পানিতে প্রায় ২-৩ ফুট তলিয়ে রয়েছে ধান কাটা শ্রমিক না থাকায় কাটতে পারছেন না। এই বর্ষার ফলে কৃষকের দুই থেকে আড়াই হাজার বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকের প্রায় ২ হাজার ৪ শ’ মেট্রিকটন ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে প্রায় চার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার পোরজনা ইউপির নন্দলালপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান শেখ জানান, এবার ধান ভালো হওয়ায় আশা করেছিলাম বাম্পার ফসল ঘরে তুলব, কিন্তুু চোখের সামনে সব ধান পানির নিচে চলে গেলো।

কৃষক রফিকুল ইসলাম রওশন বলেন, ‘৮ বিঘা ধান বুনেছিলাম। ক্ষেতে ধান পেকেও গিয়েছিল। দুই-এক দিনের মধ্যে কেটে ঘরে তুলতাম। কিন্তু বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় জমির সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেলো চোখের সামনে।’

বিধবা রঞ্জিদা বেগম জানান, তিনি সারা বছর খাওয়ার জন্য মাত্র দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু পাঁকার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে সবুজ ধানের ক্ষেত।

তাদের ভাষায় ফলন ভাল হওয়ায় স্বপ্ন ছিল বাম্পার ফলন ঘরে তুলবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে চোখের সামনেই পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে একই গ্রামের কৃষক মহামের ১০ বিঘা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গভীর শোকে বার বার অচেতন হয়ে পড়ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস ছালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমরা এসেছি। সবকিছু দেখার পর নির্দিষ্ট করে বলা যাবে কতটা ক্ষতি হয়েছে কৃষকের।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/