Alexa বাঁচানো গেল না ছোট্ট আলভিনাকে

বাঁচানো গেল না ছোট্ট আলভিনাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪১ ২৪ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আলভিনা আফরা (১১)। প্রতিদিন বিকেলে তার বাসায় গৃহশিক্ষক আসেন। সেদিন পাঁচ তলার সিঁড়ির ফাঁক দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিল স্যার আসছেন কিনা। আর সেটাই কাল হলো তার। সিঁড়ির রেলিং থেকে পড়ে মৃত্যু হলো আলভিনার।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় বুধবার বিকেলে সিঁড়ি থেকে পড়ে যায় আলভিনা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও আইসিইউ খালি না থাকায় চিকিৎসকরা পরিবারকে পরামর্শ দেন দ্রুত অন্য হাসপাতালের আইসিইউতে নিতে।

এরপর তাকে নিয়ে শুরু হয় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি। কোথাও খালি পাওয়া যাচ্ছিল না আইসিইউ। কোথাও বা চিকিৎসা ব্যয় ছিল পরিবারের সাধ্যের বাইরে। অবশেষে যখন তার চিকিৎসা শুরু হলো তার ১০ মিনিটের মধ্যেই সবাইকে ছেড়ে চলে গেল আলভিনা।

জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাপুরের আসাদুজ্জামানের মেয়ে আলভিনা। বর্তমানে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড্ডার ওই বাসায় থাকতো সে। আলভিনা স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মেয়েকে বাঁচাতে না পেরে আসাদুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ক্ষণিকের দুর্ঘটনায় মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। ঢামেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর আইসিইউ খালি না থাকায় নিয়ে যাই ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় নিয়ে যাই স্কয়ার হাসপাতালে। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারিনি। পরে নিয়ে যাই আগারগাঁওয়ের নিউরোসাইন্স ইন্সটিটিউট হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে বাচ্চাদের আইসিইউ ছিল না। এরপর আলভিনাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাই। আর সেখানে চিকিৎসা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে আলভিনা মারা যায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে সে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর সে উঠে পঞ্চম তলার সিঁড়িতে যায় তার গৃহশিক্ষক আসছে কিনা দেখতে। সিঁড়ির ফাঁক দিয়ে উকি দিয়ে দেখতে গিয়ে নিচে পড়ে যায় সে।

এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি সিঁড়ি রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে পরে গিয়ে আহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ