বহুগুণে গুণান্বিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব

বহুগুণে গুণান্বিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৮ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৭ ৭ জুলাই ২০২০

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তিনি একাধারে বাংলাদেশের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও লেখক। ১৯৬৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নাটোরের রাজাপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৭৮ সালে এসএসসি এবং এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা থেকে ১৯৮০ সালে এইচএসসি পাস করেন। 

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে বাণিজ্যে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল পেশাগত জীবনে বহুমুখী অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। 

১৯৮৮ সালের শুরুর দিকে তিনি সহকারী সচিব হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। সে সময় শিল্পনীতি ১৯৯০ প্রণয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে অনবদ্য ভূমিকা রেখে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে প্রশংসিত হন। তিনি স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগে কর্মরত থাকার সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম এর শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অব্যাহতভাবে অর্ধযুগেরও বেশি সময় নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনের অব্যহতির পর নবগঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে যোগ দেন। 

এছাড়া তিনি ভারতের দিল্লীতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (আইআইইই) এর সহযোগিতায় এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্ট্রিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) এর বৃত্তি নিয়ে নেদারল্যান্ড থেকে ২০০০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ইকো ট্যুরিজম ফর লোকাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট: এ স্টাডি অন দ্য পটেনশিয়ালিটি অফ ইকো ট্যুরিজম ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্রাক্টস অফ বাংলাদেশ।

ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে এনডিসি কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কৌশল বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। 

তিনি তার কর্মজীবনে শিল্প মন্ত্রণালয়, স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব, মন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এছাড়া ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ইএলটিআইপি) এর প্রকল্প পরিচালক; বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বিওইএসএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ দূতাবাসে ৫ (পাঁচ) বছর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়ার্ড ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ডিউক ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড ইউনিভার্সিটি, থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিসহ জাপান, কোরিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে উচ্চতর শিক্ষা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি দেশে ও বিদেশে অনেক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের দলনেতা ও সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল একজন সফল শিশু সংগঠক। আশির দশকে তার প্রতিষ্ঠিত ‘কিশোর কুঁড়ির মেলা, পাবনা’ শিশু-কিশোর সংগঠন হিসেবে প্রভূত সুখ্যাতি অর্জন করে। তিনি এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ সংগঠনের সদস্যরা অত্যন্ত ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে। 

ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ব্যক্তিগত জীবনে একজন একনিষ্ঠ পর্যটন অনুরাগী ব্যক্তি। দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে তিনি ভ্রমণ করেছেন। বিশ্বের সবকটি মহাদেশের প্রায় সবগুলো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দেশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও দাফতরিক কাজে ভ্রমণ করেছেন। তিনি একজন জনপ্রিয় ভ্রমণ কাহিনী লেখক এবং পর্যটন বিষয়ক গবেষক। ছোট গল্প, উপন্যাস ও কিশোর সাহিত্য রচনায়ও তিনি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছেন। 

ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের প্রকাশিত গ্রন্থ: নেপালের সবুজ উপত্যকায়; যেমন দেখেছি জাপান; বিবশ বিহঙ্গ; মালয় দ্বীপের উপাখ্যান; এশিয়ার দেশে দেশে (১ম খণ্ড), নিশুতির নোনা জল; আকাশ নন্দিনী; ইকো ট্যুরিজম, টোনাটুনির টেনশন, পেঙ্গুইনের দেশে, সাহসী সাতবন্ধু, বাদল ও মৎস্যকন্যা, রবিনের রংধনু ইত্যাদি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/আরআর/এসআর