Alexa বসতবাড়ি দখলে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানদের ওপর নির্যাতন

বসতবাড়ি দখলে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানদের ওপর নির্যাতন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৩ ১৬ অক্টোবর ২০১৯  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন তরুর বসতবাড়ি দখলের পাঁয়তারা চলছে। এছাড়াও তার স্ত্রী-সন্তানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মোছা. জরিনা খাতুন প্রতিকার চেয়ে কাজিপুর ইউএনওসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জরিনা খাতুনের অভিযোগ, আমার স্বামী উপজেলার আলমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকবর হোসেন তরু তিন নাবালক মেয়েকে রেখে প্রায় ২০ বছর পূর্বে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় আমার দেবর আব্দুল মান্নান, আব্দুল কাদের ও চাচাতো দেবর কোরবান আলী আমার স্বামীর সোয়া পাঁচ শতাংশ বসতবাড়ি তাদের নিজেদের বলে দাবি করে আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছেন।

চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ওই পুরাতন বসতবাড়ি ভেঙে পাকাবাড়ি নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী বাদশা তালুকদার, আব্দুল আউয়াল তালুকদার, আসাদুজ্জামান মজনু কাউন্সিলর গংদের সহযোগিতায় তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন এবং আমাকে ও নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তারা আমার ছোট মেয়ে মেরিনা খাতুনকে মারধর করেন এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেন।

ওইদিন রাতেই আমার মেয়ে মেরিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাশালী বাদশা তালুকদার, আব্দুল আউয়াল তালুকদার, আসাদুজ্জামান মজনু কাউন্সিলর বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে আমার দেবর আব্দুল মান্নান, আব্দুল কাদের ও চাচাতো দেবর কোরবান আলীর পক্ষ নেন।

এ ঘটনার পর থেকে আমি নিজ বসতবাড়ি রেখে প্রাণভয়ে বড় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছি। এই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমার বসতভিটার যাতায়াতের পথ বন্ধ করে সীমানা ঘেঁষে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। ফলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা ও বসতবাড়ি রক্ষা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছি। 

অভিযোগকারীর দেবর অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বড় ভাইয়ের কোনো ছেলে সন্তান না থাকলেও তিনি মারা যাওয়ার পর কলেজ থেকে যে টাকা পেয়েছেন সে টাকার ভাগ আমাদের দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় মাতব্বর আমার ভাবিকে যেভাবে বাড়ি নির্মাণ করতে বলেছিলেন তিনি সেভাবে না করায় একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছে অন্য কিছু না।

কাজিপুর ইউএনও জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম