প্রেমিক যুগল জানালো বশেমুরবিপ্রবির নিষিদ্ধ চত্বরের ইতিহাস  

প্রেমিক যুগল জানালো বশেমুরবিপ্রবির নিষিদ্ধ চত্বরের ইতিহাস  

শেখ আব্দুর রহিম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৩ ২৩ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৬:২১ ২৩ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নাম শুনলেই যেন মনে প্রশ্ন জাগে ‘নিষিদ্ধ চত্বর’! এটা আবার কী? এই নামে কি আবার কোন চত্বর হতে পারে কিনা? হ্যাঁ , শুনতে অদ্ভূত মনে হলেও এ চত্বরটির দেখা মিলবে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি)। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কাছেই আড্ডার জন্য প্রিয় জায়গা। মেইন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকেই প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের মধ্যবর্তী সড়ক পার হলেই দেখা মিলবে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রিয় মাঠ। মাঠের উত্তরে রয়েছে ছাত্রীদের জন্য শেখ রেহানা ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা  মুজিব হল। হল সংলগ্ন ছায়া ঘেরা সুবিশাল সড়ক। যা  একেবারে পূর্ব দিকের কৃত্রিম  পাহাড় ও লেকপাড়ে গিয়ে মিশেছে। সুবিশাল এই সড়ক আর এর দুই পাশের গাছপালা ঘেরা  ছায়ামন্ডিত  স্থানকেই বলা হয় নিষিদ্ধ চত্বর। 

সড়কের দুইপাশ ঘেষে সুউচ্চ শিরীষ ও শিশু  গাছগুলো মাথা উচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর। আর সেসব গাছে অহর্নিশ লেগে থাকে হরেক রকম পাখির কুঞ্জন। একটু সামনে তাকালেই দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত ধান ক্ষেত। 

সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটিতে গ্রাম বাংলার অপরূপ ছবির দেখা মিলে। এছাড়াও চত্বরটির আশপাশে বসার জন্য  ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাঠ ও প্লাস্টিকের  নির্মিত রং-বেরঙের বেঞ্চ। বসার এই বেঞ্চ গুলোতে সারাদিনই ভিড় লেগে থাকে । কেউ কেউ জায়গা না পেয়ে রাস্তার পাশে ঘাসের উপরেই বসে পড়ে ।আবার  বিকেল হলে বেশকিছু ফুড কার্ট আর ভ্রাম্যমাণ দোকানের দেখা মিলে। এসব দোকান যেনো আড্ডার রসদ জোগায়।

তবে জায়গাটির নাম ‘নিষিদ্ধ চত্বর’ কেনো তা নিয়ে কোন সুস্পষ্ট মত নেই। ধারণা করা হয়, ছাত্রী হল সংলগ্ন এই  জায়গাটিতে প্রায় সময়ই প্রেমিক যুগলদের আনাগোনা থাকে বলে ২০১৬  সাল থেকে শিক্ষার্থীরা মজা করে নাম দেয় ‘নিষিদ্ধ চত্বর’। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সবাই নিষিদ্ধ চত্বর হিসেবে জায়গাটিকে চিনে । 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নের ইংরেজি বিভাগের  সহকারী অধ্যাপক সুকান্ত বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নিষিদ্ধ চত্বরের মতো এমনি অনেক চত্বর আছে যেগুলো শিক্ষার্থীরা মজার ছলে নামকরণ করেছে । তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতা-কলমে প্রাতিষ্ঠানিক এর কোন রুপ নাই।

জায়গাটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রেমিক যুগলদের পাশাপাশি  আড্ডা চলে বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই নন, বহিরাগত ছেলেমেয়েরাও এখানে দল বেঁধে আড্ডা জমান। এছাড়া পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসা দিবসসহ আরো নানা গুরুত্বপূর্ণ দিবসে জায়গাটিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।  

কথা হয় আড্ডরত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তারা জানান, ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জায়গাটির নাম নিষিদ্ধ চত্বর শুনে এসেছেন। অদ্ভুত এই নামটি বারবার শুনতে শুনতে এখন আর অদ্ভুত মনে হয় না। বরং আড্ডার জন্য পছন্দের জায়গা এটি। বিকেল বেলা এখানে বসে আড্ডা দেয়া মনের প্রশান্তি যোগায়। সামনের সুবিস্তৃত বিশাল খোলা মাঠ, কৃত্রিম পাহাড়, নির্মল বাতাস আর লেক পাড়, সব মিলিয়ে আড্ডার জন্য আদর্শ স্থান এ চত্বর। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের রাসেদ  জানান, নিষিদ্ধ চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে অনেক ভালো লাগে। বিকেল বেলার বাতাস ক্লান্ত শরীরে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। ছোট ছোট গ্রুপে সব বন্ধুরা আড্ডা দেয়, যা দেখতেও ভালো লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যখন চলে যাবো তখন এই নিষিদ্ধ চত্বরের আড্ডা খুব মিস করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে যারা চলে গেছেন তারাও মিস করেন নিষিদ্ধ চত্বরের আড্ডা। এমনই একজন একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুন্না সাইদুল বলেন, নিষিদ্ধ চত্বর নামটা শুনলে মনের ভেতর বিশেষ এক অনুভূতির জাগরণ ঘটে। বিশেষ করে এই স্থানটিতে লেক পাড়ের সুনির্মল বাতাস আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো খুব মিস করি। তাছাড়া নিষিদ্ধ চত্বরের পাশেই আছে বঙ্গবন্ধু স্কুল। সেই স্কুলে ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলাধুলা, মা-বাবার হাত ধরে স্কুলে আসা, যে কাউকেই তার অতীতের ছোট বেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। যদিও চত্বরটির নাম নিষিদ্ধ, কিন্তু জায়গাটির সৌন্দর্য আমাদের কাছে বেশ প্রসিদ্ধ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/জেএস