বর্ষায় তরমুজ চাষে চমক দেখালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

বর্ষায় তরমুজ চাষে চমক দেখালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

এবিএম আতিকুর রহমান, ঘাটাইল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪০ ৯ জুলাই ২০২০  

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বর্ষাকালীন তরমুজ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বর্ষাকালীন তরমুজ

টাঙ্গাইলের পাহাড়ি উপজেলা ঘাটাইলে বিশাল এলাকা জুড়ে চাষ হয় আম, কাঁঠাল, আনারস, মালটা, লটকন, কমলাসহ শতাধিক জাতের ফল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো তরমুজ।

তরমুজকে শীতকালীন ফল বলা হলেও সেই ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে চমকে দিলেন ঘাটাইলের মাসুদ পারভেজ। বর্ষাকালে তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

ঘাটাইল-সাগরদীঘি সড়কের শহর গোপিনপুর গ্রামের মাসুদ পারভেজ পড়াশোনা করছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবসরে পাহাড়ি জমিতে তরমুজ চাষ করেন মেধাবী এ শিক্ষার্থী।

মাসুদ পারভেজ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা করোনায় খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় শাকসবজি, ফলমূল চাষে উৎসাহ দিয়েছেন। তারা করোনাকালীন মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের কথায় উৎসাহিত হয়ে আমি এই অবসরে তরমুজ চাষ করেছি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে অফ সিজনে কিছু বিদেশি জাতের তরমুজের পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে। কিন্তু আমি দেশি রেগুলার জাতের তরমুজ বীজ নিয়ে কাজ শুরু করি। এতে ভালো ফলন পাই। এ থেকে বুঝতে পারি তরমুজের কোনো মৌসুম নেই। এটি সারা বছরই চাষযোগ্য। বৈজ্ঞানিকভাবে চাষ করলে তরমুজ হতে পারে বারোমাসি ফল।

অসময়ে তরমুজ চাষে সফলতা প্রসঙ্গে মাসুদ পারভেজ বলেন, উঁচু বীজতলা বা মাচা তৈরি, রাসায়নিক সার কমিয়ে জৈব সারের প্রয়োগ বৃদ্ধি, কৃত্রিম পরাগায়ন, মাছি পোকা দমনে সেক্স-ফেরোমন ফাঁদ, মাচায় তরমুজ রক্ষা করতে ব্যাগিং, রোগের লক্ষণ দেখে সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করলে শুধু শীতকালেই নয়, বর্ষা বা গ্রীষ্মকালেও তরমুজ চাষে সফল হওয়া সম্ভব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমেও মাসুদ পারভেজের প্রকল্পের মাচায় ঝুলছে ছোট-বড় অনেক তরমুজ। অসময়ে তরমুজ চাষে তার সফলতা দেখে অনেক কৃষক সুস্বাদু এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, বর্ষাকালে তরমুজ চাষে কৃষকদের বীজ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেয়া সম্ভব। এ সময়ে তরমুজ চাষ করতে এক বিঘা জমিতে খরচ হতে পারে ৪০-৫০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমির তরমুজ ২-৩ লাখ টাকা বিক্রি করা সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রচারণা চালানো গেলে ব্যাপক সফলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর