Alexa বর্ষায় চন্দ্রনাথ পাহাড়ের রূপ দেখেছেন কি?

বর্ষায় চন্দ্রনাথ পাহাড়ের রূপ দেখেছেন কি?

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৭ ৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৪:২১ ৮ জুলাই ২০১৯

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে

শহর থেকে দূরের কোলাহলমুক্ত নির্জনতা, চারদিকে সবুজ গাছপালা। মাঝে মধ্যে পশু-পাখির ডাক আর প্রশান্তির বাতাস। এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি আপনাকে এক পাহাড়সম মানসিক প্রশান্তি দিবে। সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথাই বলছি। এই দুর্গম পাহাড়ি পথ অনেকের কাছে বেশ ভয়ঙ্করও বটে! ভয়কে জয় করে যারা ঘন বর্ষায় এই পাহাড়ের রূপ দেখেছেন, তারা জানেন সৌন্দর্য কি জিনিস! সবুজে যেন চোখ ঝলসে যায়।

সীতাকুন্ড শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে। যে পাহাড়ের চূড়ায় চড়তে যাচ্ছি সেখানে দু’টি শিব মন্দির আছে, এটা শুনে আগ্রহটা আরো বেড়ে গেল! প্রথমদিকে তেমন কষ্ট না হলেও ৩০০ ফুট থেকে আপনাকে উঠতে হবে খাড়া পাহাড় বেয়ে। কখনো বা চলতে হবে এক পাশে পাহাড়ের গা ঘেঁষে আর অন্য পাশে খাদ নিয়ে। একবার পা ফসকালেই পড়তে হবে ২৫০-৩০০ ফুট নিচে। কোনো কোনো জায়গায় পথটা এতটাই সরু যে, দুজন মানুষ একসঙ্গে উঠা-নামা করা প্রায় অসম্ভব।

মাঝে মাঝে পাবেন প্রাচীনকালের তৈরি সিঁড়ি। কে কত সালে কেন বানিয়েছে সবই লেখা আছে নামফলকে। চারদিকে নিরব-নিস্তব্ধ। মাঝে মাঝে শুনতে পাবেন চেনা-অচেনা পাখির ডাক। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাবার পথে ছোট একটি ঝরনাও দেখা যায়। এই ঝরনার কাছ থেকে পাহাড়ে উঠার পথ দু’দিকে চলে গেছে। ডান দিকের পথটির পুরোটাতেই পাহাড়ে উঠার জন্য সিঁড়ি তৈরি করা আর বাম পাশের পথটি সম্পূর্নই পাহাড়ি।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পথে পথে

পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে আমাদের সময় লাগলো ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। সেখানে রয়েছে শ্রী শ্রী বিরূপাক্ষ মন্দির। মন্দিরে অবস্থারতরা জানালেন, এটা তাদের শিব দেবতার বাড়ি। প্রতিবছর এই মন্দিরে শিবরাত্রি তথা শিবর্তুদশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়। এই পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়। সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসে (ইংরেজী ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাস) বড় ধরনের একটি মেলার আয়োজন করে থাকেন। যেটি শিবর্তুদর্শী মেলা নামে পরিচিত।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মাঝামাঝি দূরত্বে এবং চূড়ায় মন্দিরের কাছে ছোট টং দোকান আছে। সেগুলোতে হালকা খাবার এবং পূজা দেয়ার উপকরণ পাওয়া যায়। তবে ভালো হয় ওঠার সময় সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও কিছু শুকনো খাবার রাখলে।

পাহাড় থেকে নিচে নামার সময়ও আপনি মুগ্ধ হবে। কারণ, এই পাহাড়ের দুটি রাস্তা রয়েছে। আপনি যদি আগে বিরূপাক্ষ মন্দির হয়ে উঠেন সেটা হবে আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, চন্দ্রনাথ মন্দির থেকে নামার রাস্তার সিড়ির ধাপগুলো অনেক বড় বড়। এই পথে উঠতে গেলে আপনাকে খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাবেন। আর নামতে গেলে আপনি পাবেন দুই পাহাড়ের মাঝের সুরঙ্গ রাস্তা। এখানে সব সময়ই বাতাস থাকে। যা ক্লান্ত দেহকে এক মুহূর্তেই ঠান্ডা করে দেয়। এবং এই পাহাড় থেকে নিচে নামা একদম সহজ।

চন্দ্রনাথ পাহাড় যেন সবুজ অরণ্য

চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্রগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। তাই যে জায়গা থেকেই চন্দ্রনাথ পাহাড় দেখতে চান আপনাকে প্রথমে সীতাকুণ্ডে আসতে হবে। সীতাকুণ্ড থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন পাহাড়ের পাদদেশে।
 
সাবধানতা

* বৃষ্টির পর পরই পাহাড়ে না ওঠাই ভালো। তবে রিস্ক নিয়ে যেতে পারেন।

* পাহাড়ে উঠার সময় বাঁশের কঞ্চি নিয়ে উঠবেন। ১০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে থাকে।

* ভারি কোনো জিনিসপত্র নিয়ে পাহাড়ে উঠবেন না।

* পাদদেশে খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। তাই উঠার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং স্যালাইন সঙ্গে নিয়ে উঠবেন।

* অনেকটা পথ উপরে উঠার পর পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করবে। তাই ধীরে ধীরে উঠুন।ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে