বর্ষার স্নানে স্নিগ্ধ ‘কাঠ গোলাপ’

বর্ষার স্নানে স্নিগ্ধ ‘কাঠ গোলাপ’

মো. শাহাদাৎ হোসেন, মঠবাড়িয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২০ ১০ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৯:২৩ ১০ জুলাই ২০২০

কাঠ গোলাপ

কাঠ গোলাপ

দেখতে গোলাপের মতো নয়। আবার কাঠের সঙ্গেও নেই কোনো সম্পর্ক। তবুও এই ফুলের নাম কাঠ গোলাপ। এছাড়া ফুলটি কাঠ চাম্পা, গৌরচাম্পা, চালতা গোলাপ, গুলাচি, গোলকচাঁপা নামেও পরিচিত। 

ইংরেজী নাম  ‘ফানগিপানি’ তবে ফুলটিকে প্যাগোডা টিরুও বলা হয়। এ মৌসুমে সর্বত্র ফুটে আছে এ ফুল। অনেক দূর থেকে দেখা যায়। বড় বড় পাতার মাঝখানে জবুথবু হয়ে একগুচ্ছ ফুল ঘাপটি মেরে বসে থাকে। আর সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয় চারপাশ জুড়ে। 

পাঁচ পাপড়ির মাঝখান থেকে হলুদের একটুখানি আভা উঁকি-ঝুঁকি দেয়ার কারণেই কিনা সাদার রূপ যেন আরো বহুগুন বেড়ে যায়। রাতের বেলায় কাঠ গোলাপ তুলনামূলক বেশি সুঘ্রাণ ছড়ায়। 

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা কাঠ গোলাপকে মৃত্যুহীন প্রাণের প্রতীক বলে মনে করে। বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে এই ফুল প্রতিটি অনুষ্ঠানেই প্রয়োজন হয়। 

কাঠ গোলাপ গাছের দেহ নরম এবং ভঙ্গুর। শাখা প্রশাখার অগ্রভাগে থোকা থোকা ফুল হয়। সচরাচর যে কাঠগোলাপ দেখা যায়, পাপড়ির রং হয় সাদা। পাঁচ পাপড়ির ফুলের কেন্দ্রে গাঢ় হলুদ রঙের ছোঁয়া থাকে। দুই রঙের স্পর্শে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে ফুলটি। 

একই ফুল লাল রঙেরও হয়ে থাকে। পাপড়ির উর্ধাংশ প্রশস্ত। এই ফুল সারা বছর ফোটে না। এমনকি গাছের পাতাও ঝরে যায়। শীতের শেষে ঝরতে শুরু করে। একসময় নিষ্পত্র হয়ে যায় গাছ। তখন ন্যাড়া মাথার মতো দেখতে হয়। অন্য গাছের পাশে এটি যেন মরা কোনো গাছ। 

তবে গ্রীষ্মে নতুন প্রাণ পায়। বেশ লম্বা আর বড় বড় পাতা হয়। শাখার শেষ অংশে ঘন বিন্যস্ত গুচ্ছ গুচ্ছ পাতা। শুধু পাতার সৌন্দর্যও চোখে পড়ার মতো। 

কাঠ গোলাপের আদি নিবাস গুয়াতেমালা ও মেক্সিকো। এখন বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়। এ্যরোমাথেরাপিতে বিশেষভাবে এই ফুলের ব্যবহার হয়। ইউরোপ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, জাপান, ভারত ও চীনে বানিজ্যিক ভাবে এই ফুলের চাষ হয় বলে জানা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ