Alexa ফেলে দেয়া পলিথিন-প্লাস্টিকে সোহাগের জ্বালানি তেল উৎপাদন

ফেলে দেয়া পলিথিন-প্লাস্টিকে সোহাগের জ্বালানি তেল উৎপাদন

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৯ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৯ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেলে দেয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে পেট্রল, ডিজেল, বিটুমিন উৎপাদন করছেন খুলনার মো. সোহাগ হাওলাদার। শুধু জ্বালানি তেল নয়, তিনি গ্যাস ও ছাপার কাজে ব্যবহারের জন্য কালিও তৈরি করেন একই পলিথিন-প্লাস্টিক দিয়ে।

যত্রতত্র পড়ে থাকা অব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করায় পরিচ্ছন্ন হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। অটোরিকশার মিস্ত্রি সোহাগের এ উদ্ভাবন এক নজর দেখতে প্রতিদিনই বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

ছোটবেলা থেকেই সোহাগ নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোড এলাকায় থাকতেন। স্থানীয় জোড়াকল বাজারে চায়ের দোকানে কাজের পাশাপাশি ইউসেপ স্কুলে পড়াশোনা করতেন। ওই স্কুলের কারিগরি বিভাগে ১৮ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছল তাকে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজে নামতে বাধ্য করে।

সোহাগ বলেন, একদিন গ্যারেজের কাজ শেষে বাসায় দুপুরের খাবার খাচ্ছি। এমন সময় টিভিতে দেখি, একজন পলিথিন দিয়ে তেল উৎপাদন করেছেন। পরে প্রতিবেদনটা ভালোভাবে দেখি। আট মাস চেষ্টার পর সফলতা পাই। তবে টিভিতে দেখেছি, তিনি তেল আলাদা করতে পারেননি। কিন্তু আমি পেট্রল, ডিজেল, বিটুমিন প্রত্যেকটা আলাদা করতে পেরেছি। গ্যারেজের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এ কাজ শুরু করি।

তিনি বলেন, এ কাজের জন্য তেলের একটি টিনের বড় ড্রাম (ব্যারেল), ছোট দুটি কন্টেইনার, ৪ ফুট স্টিলের সরু পাইপ ও কয়েক হাত প্লাস্টিকের পাইপ কিনে কাজ শুরু করি। প্রথমে কিছু সমস্যা দেখা দিলে তা শুধরে নিয়ে এখন আমি সফল। পরিত্যক্ত পলিথিন টিনের ড্রামে ভরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তাপ দেই। এরপর ড্রাম থেকে নির্গত গ্যাস ও জলীয় বাষ্প পাইপ দিয়ে এসে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে রাখা পানিতে শীতল হয়ে ছোট কন্টেইনারে জমা হয়। আর বাকি গ্যাস স্টিলের পাইপ দিয়ে বেরিয়ে আসে।

সোহাগ আরো বলেন, ১০ কেজি পলিথিন বর্জ্য দিয়ে ছয় লিটার পেট্রল, দুই লিটার ডিজেল, এক কেজি বিটুমিন, এক কেজি কালি ও ১ কেজি গ্যাস উৎপাদন করা যায়। এ পেট্রল দিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, পলিথিন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সে পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদন করছে সোহাগ। এতে করে একদিকে যেমন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে উৎপাদিত হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি।

স্থানীয় বাসিন্দা নাসরিন সুলতানা বলেন, পলিথিন থেকে যে তেল তৈরি করা যায়, নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। ছোটবেলা থেকে সোহাগ এখানে বড় হয়েছেন। তিনি মেধাবী কিন্তু অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি। তবে সরকারের একটুখানি সহযোগিতা পেলে তিনি হয়তো দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারতেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর