Alexa বরিশালে ট্রিপল মার্ডারে মামলা 

বরিশালে ট্রিপল মার্ডারে মামলা 

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৯ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বরিশালে জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আহম্মদ।

তিনি বলেন, নিহত মরিয়ম বেগমের ছেলে সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

তিনি আরো জানান, মামলায় কোনো নামধারী আসামি নেই। অজ্ঞাতদের আসামি করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। তবে এরইমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পূর্ব রায়পাশা গ্রামের চুন্নু হাওলাদারের ছেলে গ্রাম্য কবিরাজ জাকির হোসেন ও তার সহযোগী জুয়েলকে আটক করা হয়েছে। মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। 

এদিকে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এসপি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত হত্যার রহস্য উন্মোচন ও জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

শনিবার সকালে ওই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের ঘর থেকে তার মা মরিয়ম বেগম (৭০), মেজ বোনের স্বামী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল আলম (৬০) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফ হোসেনের (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের সুরতহাল শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শনিবারই সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে স্বজনরা দেশের বাইরে থাকায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো মর্গের ফ্রিজে রাখা হয়েছে। স্বজনরা দেশে ফেরার পর মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হবে।

লাশগুলো যে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বাড়ির মালিক কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের ভবন নির্মাণের সময় জাকির হোসেন নামে আটক ব্যক্তি রাজমিস্ত্রী কাজ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি গ্রাম্য কবিরাজের কাজও করতেন। 

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, প্রবাসীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যর সঙ্গে কবিরাজ জাকিরের গভীর সখ্য রয়েছে। 

প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু ও তার ভাইয়ের মেয়ে বানারীপাড়ার চাখার সরকারি ফজলুল হক কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্রী আছিয়া আক্তারের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরেই জাকির হোসেন ও তার সহযোগী জুয়েলকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার পর অনেক তথ্যই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে আসতে শুরু করে। যার মধ্যে পরকীয়া, ঝাড়ফুঁকসহ বেশ কিছু ঘটনা রয়েছে। তবে শুরুতে এ পরিবারের সদস্যরাই জমিজমা নিয়ে বিরোধের কথা বলে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ঘটনাই গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ