বরগুনায় ২৭ টন চাল আত্মসাৎ করলেন চেয়ারম্যান!

বরগুনায় ২৭ টন চাল আত্মসাৎ করলেন চেয়ারম্যান!

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৪ ৪ এপ্রিল ২০২০  

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউপিতে জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে ২৭ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টুর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পাথরঘাটার ইউএনও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির তদন্তে গেলে তার পথরোধ করে বিক্ষোভ করে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে এলাকাবাসী। এ সময় চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টুর বিচার দাবি করে তারা।

তখন ইউএনও’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান, সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউপির কার্ডধারী ৫৫০ জন জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এর ৪৪ টন চাল গ্রহণ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। যা প্রতি জেলেকে দুমাসের জন্য ৮০ কেজি করে বিতরণ করার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে প্রতি জেলেকে ৩০ কেজি করে বিতরণ করেছে। প্রত্যেক জেলেকে ৫০ কেজি চাল কম বিতরণ করেন। এতে ৫৫০ জন জেলের মোট ২৭ হাজার ৫০০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন আলাউদ্দিন পল্টু চেয়ারম্যান। 

তদন্তে আসা পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির জানান, চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু চাল বিতরণ ব্যাপকভাবে অনিয়ম করেছে। তার এলাকায় বরাদ্দকৃত ৪৪ মেট্রিকটন চালের মধ্যে মাত্র সাড়ে ১৬ মেট্রিকটন চাল বিতরণের সঠিক প্রমাণ দিতে পেরেছেন। বাকি সাড়ে ২৭ মেট্রিকটন চাল বিতরণের কোনো সঠিক প্রমাণ দিতে পারেনি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু।

একাধিক ইউপি সদস্য জানান, কোনো ধরনের মিটিং ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান পরিষদ পরিচালনা করে। তারা যখন পরিষদে আসেন তখন তাদের সামনে সাদা রেজুলেশনের খাতা দিয়ে সাক্ষর করতে বাধ্য করে।

মহিলা ইউপি সদস্য সোনিয়া আক্তার বলেন, হঠাৎ করে রাতে চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে বলে আপনি ৪০ জনের নামের তালিকা দেন সকালে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করবো। তখন কোনো মতে তাকে নামের তালিকা দেই। কিন্তু পরদিন সকাল ৭টায় পরিষদে এসে দেখি চাল বিতরণ করা শেষ। একই অভিযোগ করেন ইউপি সদস্য মিলন মেম্বার ও সালমা মেম্বার।

স্থানীয় আলম পহলান জানান, শুধু ভিজিএফের চাল নয়! কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদে যত ধরনের সহায়তা আসে তার সবক্ষেত্রেই দুর্নীতি করে এ চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে এর আগেও বহুবার পত্র পত্রিকায় ও টিভিতে নিউজ হয়েছে।

ভিজিএফ চাল বিতরণে দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) রনজিৎ মিস্ত্রী বলেন, চাল বিতরণের কোনো খবর আমার কাছে নেই। যেখানে চাল বিতরণের একদিন আগে আমাকে পরিষদ থেকে অবহিত করার কথা। সেখানে আমাকে না জানিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে ৪৪ মেট্রিকটন চাল বিতরণ হয়েছে। যা অনিয়ম।

অভিযুক্ত কাকচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু বলেন, আমি ১ হাজার ৪৬৬ বস্তা চাল পেয়েছি। যা ১ হাজার ৪৬৬ জনকেই বিতরণ করা হয়েছে। ৫৫০ জনের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ১ হাজার ৪৬৬ জনকে বিতরণের নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পাথরঘাটার ইউএনও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি ডিসিকে জানানো হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ