বন্যা ও নদী ভাঙন এলাকায় কেমন কাটলো ঈদুল আজহা

বন্যা ও নদী ভাঙন এলাকায় কেমন কাটলো ঈদুল আজহা

মফস্বল ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪১ ১ আগস্ট ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

করোনা পরিস্থিতির মাঝে জেলায় জেলায় উদযাপন করা হয়েছে ঈদুল আজহা। একদিকে করোনার কারণে ঘরবন্দী জীবন, আরেক দিকে বন্যার সঙ্গে লড়াই করে অসহায় জীবনযাপন। কেমন কেটেছে বিভিন্ন জেলায় এসব দুর্গত মানুষের ঈদ। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে আরো বিস্তারিত। 

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই ঈদুল আজহার আনন্দ নেই বানভাসিদের মাঝে।

দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুরের বাবলু মিয়া বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বন্যায় আটকা পড়েছি। এখন একটু পানি কমলেও খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তায় আছি।

মাদারীপুর

মাদারীপুরেও বন্যা দুর্গতদের ছিল না ঈদের আনন্দ। জেলার শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা গ্রামের আয়ুব আলী মাদবর জানালেন, ঈদুল আজহার আনন্দ করার পরিস্থিতি এখন আর নেই, বেঁচে থাকলে ঈদ পরে করবো। 

গত দুই দিন ধরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় মাদারীপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় ও নদী ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা দুর্গত মাদারীপুরের চারটি উপজেলায়। 

সুনামগঞ্জ

ঈদের আনন্দ-আমেজ ছিল না সুনামগঞ্জে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বাউল লাল শাহ, ধর্মপাশা উপজেলার বাবুপুর গ্রামে ফেরা গার্মেন্টস শ্রমিক আব্দুর রব, এনামুল হক, নূরপুর গ্রামের ঝুমন মোড়লের। করোনার কারণে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ। তাছাড়া বন্যায়ও কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

গত বৈশাখ মাসে করোনায় কর্ম হারিয়ে ঢাকা থেকে ফেরার পর, হাওরে ধান কেটে খাদ্য সংগ্রহ করেছিলেন আব্দুর রব, এনামুল হক এবং ঝুমন মোড়ল। সেটা দিয়ে কোনোমতে খাবারের ব্যবস্থা হলেও, সংসারের অন্যান্য খরচ চালাতে পারছেন না তারা। ঈদুল ফিতরও আনন্দহীন কেটেছে। ঈদুল আজহাও নিরানন্দে কাটছে। জীবনে এমন রঙহীন ঈদ আসবে কখনো কল্পনাই করতে পারেননি তারা। 

কুড়িগ্রাম

ঈদের আনন্দ নেই কুড়িগ্রামের বন্যা কবলিত চারশ চরের কয়েক লাখ মানুষের। বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে কয়েক দফা। অনেকের ঠাঁই হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বেড়িবাঁধের কাদাপানিতে। 

ছবি: সংগৃহীত

বন্যা কবলিত এলাকাবাসীরা বলেন, আমাদের জন্য দুঃখজনক ঈদ বলা যেতে পারে। ঈদের যে আনন্দ, সেভাবে কাটাতে পারছি না। কোনো বাজার করতে পারিনি। ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি আমরা।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে বন্যা আর নদী ভাঙনের প্রভাব পড়েছে ঈদে। বাড়ি ঘর হারানো মানুষজন দীর্ঘ বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

ছবি: সংগৃহীত  

জামালপুর

জামালপুরে বানভাসিদের ঘরে নেই ঈদের আনন্দ। এক মাসেরও বেশি সময় পানিবন্দী থাকায় উপার্জনহীন মানুষগুলোর ঘরে চলছে চরম খাদ্য সংকট। 

গাইবান্ধা

এদিকে একমাসেরও বেশি সময় ধরে ডুবে আছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটার চর ও নিম্মাঞ্চল। তিন দফা বন্যায় সর্বস্বান্ত মানুষগুলোর ঈদ নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার বিস্তর অভিযোগও তাদের।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ