পানি বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপরে, ডুবেছে রেললাইন

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

পানি বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপরে, ডুবেছে রেললাইন

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:১০ ১৫ জুলাই ২০২০   আপডেট: ০০:১১ ১৫ জুলাই ২০২০

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, জামালপুর শহরের তুলশীরচর, লক্ষ্মীরচর, মেষ্টা, কেন্দুয়ার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলস্টেশনে বন্যার পানি ওঠায় ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটের ট্রেনগুলো ইসলামপুর রেস্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে জামালপুর রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার শেখ উজ্জ্বল মাহমুদ জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই এ নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলস্টেশনের একদিকের রেললাইন ২-৩ ইঞ্চি পানির নিচে চলে গেছে। পানি বাড়তে থাকলে ট্রেন জামালপুর থেকেই ঢাকা ফেরত যাবে।

তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত দুটি ট্রেন চলাচল করে। তিস্তা এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। সকালে তিস্তা এক্সপ্রেস দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। রাতের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ইসলামপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে।

এদিকে টানা বর্ষণ ও প্রবল পাহাড়ি ঢলে যমুনার তীরবর্তী এলাকা ছাড়াও পানি ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভার চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বানভাসি এসব মানুষকে আশ্রয় দিতে খোলা হয়েছে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে ২৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে ঘরবাড়ি-রেললাইন

ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্র, সেতু ও বেড়িবাঁধের উঁচু স্থানে যেতে শুরু করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, ৫৩টি গ্রামের ৯৫ হাজার ৮৮২ জন মানুষ পানিবন্দী। ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫৪৬টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করছেন ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কবির উদ্দিন, দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও সুলতানা
রাজিয়া প্রমুখ।

উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, বন্যার্তদের জন্য ৩৭ মেট্রিক টন চাল ও ৯৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৫৪ হাজার পরিবারের জন্য ৫৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও সুলতানা রাজিয়া জানান, বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। বানভাসি মানুষের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম করা হয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৬৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বন্যা ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর