বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ইরানকে আড়াই লাখ মাস্ক দিলো চীন

বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ইরানকে আড়াই লাখ মাস্ক দিলো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৩ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৫ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় ইরানকে আড়াই লাখ মাস্ক দিলো চীন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় ইরানকে আড়াই লাখ মাস্ক দিলো চীন

উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইরানকে সাহায্য করতে এবার এগিয়ে আসলো চীন সরকার। ইরানে ক্রমশ মহামারি রূপ নেয়া এ ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশটিকে ২ লাখ ৫০ হাজার মাস্ক দিয়েছে চীন।

সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া’র তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার তেহরানে চীনা রাষ্ট্রদূত চ্যাং হুয়া ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হাতে এসব মাস্ক তুলে দেন। 

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত চ্যাং হুয়া বলেন, ইরানে করোনাভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর এমন অবস্থায় দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করতে চীনের পক্ষ থেকে এ সহায়তা দেয়া হলো। এর আগে চীনকে ৩০ লাখ মাস্ক দিয়ে সহায়তা করেছিল ইরান।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে গত এক সপ্তাহে  এ ভাইরাসে ১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ জন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, লেবানন ও ইসরায়েলও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের গণমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়, প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ও একজন এমপি আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারিরচি এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা ও ওষুধ সেবন শুরু করার কথা জানিয়েছেন। এতদিন ধরে ইরানে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের খবর দিয়ে আসছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর থেকে চীনে মহামারি আকার ধারণ করে এই ভাইরাস। চীনের সীমা পেরিয়ে বিশ্বের প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। 

বিভিন্ন দেশে চীন থেকে ফেরা মানুষের কাছ থেকে অন্য মানুষে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতে থাকায় গত ৩০ জানুয়ারি এ ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভাইরাসটিকে বৈশ্বিক মহামারি (প্যানডেমিক) ঘোষণা করে সংস্থাটি।

যদিও এ ভাইরাসের প্রকোপ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত সে ভাবে দেখা যায়নি। তবে যেভাবে পূর্ব এবং পশ্চিম এশিয়ায় করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে এই দেশগুলোরও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য, এই দেশগুলোরও করোনার সঙ্গে লড়াই করার মতো পরিকাঠামো তৈরি করে রাখা উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ