Alexa বন্দী রেখে বাবা-সৎমায়ের নির্যাতন, এক ছেলের মৃত্যু

বন্দী রেখে বাবা-সৎমায়ের নির্যাতন, এক ছেলের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৫:৪৫ ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাগল বলে দুই ছেলেকে ঘরে বন্দী রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বাবা ও সৎমায়ের বিরুদ্ধে। নির্যাতনে হেমায়েত হোসেন সুমন নামে এক ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সুমনের মরদেহ ও সাফায়েত হোসেন রাজু নামে অপর ছেলেকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে। তারা একই এলাকার হাবিবুল্লাহ ক্যাশিয়ারের ছেলে।

উদ্ধার হওয়া রাজু জানান, নোয়াখালীর একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার মা মোহসেনা বেগম মারা যান। এরপর লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাকে ফতুল্লায় নিয়ে আসেন বাবা। এর কিছুদিন পর তার ছোট খালা কোহিনুর বেগমকে বিয়ে করেন হাবিবুল্লাহ। কিছুদিন পর কোহিনুরও মারা যান। পরে আরেকজনকে বিয়ে করলে তিনি বিচ্ছেদ করেন।

তিনি আরো জানান, এক বছর আগে হনুফা বেগম নামে আরেকজনকে বিয়ে করেন হাবিবুল্লাহ। এরপর থেকে সুমন ও রাজুর ওপর অমানসিক নির্যাতন চালানো হয়। দুই ছেলেকে দুইটি কক্ষে এক বছর ধরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। কখনো খাবার দেয়া হয় না আবার কখনো লাঠি দিয়ে মারধর করেন বাবা ও সৎমা।

রাজু বলেন, কয়েকদিন আগে সুমনকে অনেক মারধর করা হয়। তখন অনেক চিৎকার করলেও বাবা ও সৎমায়ের ভয়ে আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। আমি ও আমার ভাই পাগল না। বাবার যে সম্পত্তি রয়েছে তার অর্ধেকের মালিক আমার মা মোহসেনা বেগম। এ জমি বাবা ও সৎমা আত্মসাতের জন্য আমাদের পাগল আখ্যা দিয়ে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করতেন। বড় ভাই নির্যাতনেই মারা গেছেন বলে তার দাবি।

ছেলের অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুল্লাহ বলেন, আমার পাঁচ ছেলে। দুইজন মানসিক রোগী। বাকিরা পড়াশোনা করে। অসুস্থ দুই ছেলেকে অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। বড় ছেলে অসুস্থ হয়েই মারা গেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ফজলুল হক বলেন, নিহতের শরীরের পেছনে পচন ধরেছে। আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে সঠিক কারণ জানা যাবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর