বদলির আড়াই মাস পর এলো অর্ডারের কপি

বদলির আড়াই মাস পর এলো অর্ডারের কপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৫ ৫ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁদপুর জেলা পরিষদে প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৗশলী ইকবাল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। তার এই বদলির আদেশ মার্চ মাসে হলেও অজ্ঞাত কারণে তা গত ২ জুন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে। 

এতোদিন কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে প্রেষণে বদলি হয়ে আসা এই প্রকৌশলী চাঁদপুর জেলা পরিষদে বদলি হয়ে আসেন। মূলত তিনি এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তাই এবার তাকে কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বদলি করা হয়েছে।

গত ২২ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (প্রশাসন) পক্ষে প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে চাঁদপুর জেলা-পরিষদে প্রেষণে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে তার প্রেষণাদেশ প্রত্যাহার করে আগের বেতন স্কেলে কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বদলির আদেশ জারি করে। 

উপ-সহকারী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে খোদ জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন, একজন প্রভাবশালী স্থানীয় এমপি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন দফতরে অভিযোগ করলে সেই অভিযোগ তদন্ত করার নির্দেশও আসে। কিন্তু সেই তদন্তও  ইকবাল হোসেন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

জানা যায়, ইকবাল হোসেন গত কয়েক ঢাকায় বাড়ি গাড়ি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। জেলা পরিষদে থেকে নিজেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঠিকাদারি করেছেন। এদিকে চাঁদপুরে থাকার জন্য ইকবাল হোসেন নানা চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগেও এই প্রকৌশলী একই অভিযোগে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছিলেন। তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং গ্রেফতারও করা হয়। তৎকালীন জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো।

অভিযোগের ব্যাপারে জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, কোনো অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত হলো না, তা আর জানলাম না। 

তিনি আরো বলেন, এই কর্মকর্তা শুধু দুর্নীতি বা অনিয়মই করেন না, তিনি নানা সময়ে সরকারের উন্নয়ন বিরোধী কথাও বলেন।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্যানেল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি মঙ্গলবার ( ২ জুন) এ আদেশটি পেয়েছি। তবে ইকবাল হোসেনের কর্মস্থলে আরেকজন না আসা পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র দিতে পারছি না। বদলির দেড়মাস পর কেন অর্ডার পেলেন, এই সম্পর্কে তিনি বলেন এটি এখন পেয়ে আমিও বিব্রত। 

দুর্নীতি, তদন্ত এসব বিষয়ে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ হয়েছিলো। উর্ধ্বতনরা তদন্ত কমিটিও করেছিলেন। কিন্তু কি কারণে তা হয়নি সে আর আমি বলতে পারছি না।

কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, আমাদের ওই দফতরটিতে কর্মরত লোক না থাকায় কাজের খুবই সমস্যা হচ্ছে। আমি বুধবার আদেশটি হাতে পেয়েছি এবং তিনি কবে যোগদান করবে চাঁদপুরে যোগাযোগ করবো।

এদিকে উপসহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করিয়েছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান। তার এলাকার এমপি সাহেব পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো কমিটির কথা আমি জানি না।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ