Alexa বজ্রপাতের `ডেড জোন` এখন বাংলাদেশ

বজ্রপাতের `ডেড জোন` এখন বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১৫ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১০:০৫ ১৬ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশ্বে বছরে বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যাচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেকই ঘটছে বাংলাদেশে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বজ্রপাতের ‘ডেড জোন’ এখন বাংলাদেশ।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম সংবাদপত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, চলতি বছরে গত দুই মাসে বাংলাদেশে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১২৬ এবং আহত হয়েছেন ৫৩ জন। 

শনিবার সারাদেশে বজ্রপাতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। পাবনার বেড়ায় বজ্রপাতে দুই ছেলে, বাবাসহ চারজন নিহত হন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহে বজ্রপাতে তিনজন নিহত হন। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একজন নিহত হয়েছেন। আগের দিন শুক্রবার বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুসহ দুইজন এবং শেরপুরে এক কৃষক নিহত হন। ২৮ জুন সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হন। 

ভারতের আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, বাংলাদেশে গড়ে বছরে তিন হাজার বজ্রপাত হয়। জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে গড়ে বছরে আড়াই হাজার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। অথচ বজ্রপাতের তথ্য রেকর্ড করার প্রযুক্তি নেই বাংলাদেশে।

২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আবহাওয়া সম্পর্কিত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাতক হিসেবে চিহ্নিতও করা হয় বজ্রপাতকে। বজ্রপাতের সময় প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও বায়ুদূষণ। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে ভারত মহাসাগর। উত্তরে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল। রয়েছে হিমালয়। সাগর থেকে আসে গরম বাতাস, আর হিমালয় থেকে আসে ঠাণ্ডা বাতাস। একসঙ্গে দুই রকমের বাতাসের সংমিশ্রণে বজ্রমেঘের আবহ তৈরি হয়। এ রকম একটি মেঘের সঙ্গে আরেকটি মেঘের ঘর্ষণে বজ্রপাত ঘটে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশে প্রতিবছর বজ্রপাতের প্রবণতা আরো বাড়ছে। নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ কমানো ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে না। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।  মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বজ্রপাতের সময় বড় গাছের কাণ্ড থেকে ১০ ফুট দূরে থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বজ্রপাতে। 

বজ্রপাতে মৃত্যুর চেয়ে দশগুণ বেশি মানুষ আহত হন। এই আহতরা যখন মারা যান তখন আর হিসাবে ধরা হয় না।  

বাংলাদেশে কম বজ্রপাত হলেও মানুষ মারা যাচ্ছে বেশি। বজ্রপাতে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও মারা যায়। এর জন্য এদেশের মানুষের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যসূচিতে বজ্রপাতের সময় করণীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান অনেকেই। এছাড়া, বজ্রপাত কমিয়ে আনতে বড় বড় গাছ বিশেষ করে তালগাছ লাগাতে হবে। প্রতিটি ভবনে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করতে হবে। 

বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির শঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বিশ্বে দুর্যোগ ঝুঁকির তালিকায় পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে