Alexa বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে ২৯ মাস ডিটেনশন খাটেন তিন বন্ধু

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে ২৯ মাস ডিটেনশন খাটেন তিন বন্ধু

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৪:১০ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যার তীব্র প্রতিবাদ করে বিচার দাবি করেছিলেন নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন বন্ধু। আর এতেই ওই তিনবন্ধুর ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। তাদের দেয়া হয় দুই বছর ডিটেনশন ও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড। 

ওই সময় তাদের পক্ষে কথা বলারও কেউ ছিল না। মুজিব হত্যার ৪৩ বছর কেটে গেলেও তাদের খোঁজ নেয়নি কেউ। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সেই তিনবন্ধুকে ডেকে তাদের জীবনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া গল্প শুনলেন ইউএনও তমাল হোসেন এবং শোনালেন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মাঝে তিনবন্ধুর ইতিহাস তুলে ধরেন ইউএনও। নীরবে ইতিহাস শোনার মুহূর্তে অনেকের চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও নাটোর ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নাবিউর রহমান পিপলু, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বজলুর রহমানসহ সেই তিনবন্ধু। 

১৯৭৫ সালে  “রক্তের বদলে রক্ত চাই, মুজিব হত্যার বিচার চাই” এই স্লোগানে পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করার অপরাধে ছাত্রলীগের ঘনিষ্ঠ এ তিনবন্ধু প্রবীর কুমার বর্মন, নির্মল কর্মকার ও অশোক কুমার পালকে আটক করে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। টানা ২৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

তারা বলেন, সে সময় অন্যায়ভাবে আটক করে তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তোলা হয়। জীবনের সোনালি সময়ে গড়তে দেয়া হয়নি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। জেল থেকে মুক্তির পরও তারা ভয়ে ভয়ে থাকতেন। কখন জানি তাদের আবার গ্রেফতার করা হয়। 

গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে ওই তিন বন্ধুর বসবাস। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের জীবন চলছে সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাওয়া নির্যাতিত তিনবন্ধুর কথা কখনো কেউ বলেনি। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের বিষয়ে আমি জানতে পেরেছি। জানার পরপরই তাদেরকে ডেকে তাদের জীবনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা শুনেছি। তাদের সার্বিক সমস্যা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দেয়া হবে সম্মাননা স্মারক। “চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও ৭১” এর অনুষ্ঠানগুলোতে তিনবন্ধুকে উপস্থাপন করা হবে এবং দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে নির্যাতিত হওয়ার গল্পও তাদের শোনানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ