‘বঙ্গবন্ধু আমাকে ভাগনি বলে ডাকতেন’

‘বঙ্গবন্ধু আমাকে ভাগনি বলে ডাকতেন’

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৫ ১৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৭:০১ ১৭ মার্চ ২০২০

নিজ বাড়িতে তহরীনা বিবি

নিজ বাড়িতে তহরীনা বিবি

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার আপন মামা তৎকালীন পাটমন্ত্রী আব্দুস সাত্তারের দোস্ত ছিলেন। এ সম্পর্ক ধরেই আমরা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যেতাম। তিনি আমাকে ভাগনি বলে ডাকতেন।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ডেইলি বাংলাদেশকে এসব কথা বলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউপির নিভৃত পল্লী কুরুষা ফেরুষা গ্রামের ইউনুস আলী বাচ্চু ওরফে বাঘা ইউনুসের স্ত্রী তহরীনা বিবি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে আমি ছোট বেলায় খেলতাম। বিয়ের পর আমার স্বামীকেও স্নেহ করতেন বঙ্গবন্ধু। আজ তিনি বেঁচে থাকলে আমি এই প্রত্যন্ত গ্রামে অসহায় অবস্থায় থাকতাম না। তিনি আমাদের সবাইকে ঢাকায় টেনে নিতেন।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার খবর শুনেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মারা যান তহরীনা বিবির স্বামী ইউনুস আলী বাচ্চু। মারা গেছেন তার বড় মেয়েও। জীবিত আট ছেলেমেয়ের মধ্যে এক ছেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএলএস। মেজ ছেলে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের এমএলএস। ছেলেদের আয়েই কোনোরকম জীবন চালাচ্ছেন তহরীনা বিবি।

তিনি আরো বলেন, স্বামীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গেলেই তিনি আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। কুড়িগ্রামবাসী ও কুড়িগ্রাম আওয়ামী লীগের খবর নিতেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের বলতেন ‘তোমাদের কেউ পেটাতে এলে পিঠ পেতে দেবে, প্রতিবাদ করবে না। যারা পেটাবে একদিন তারাই অনুতপ্ত হবে, নিজেদের ভুল বুঝবে।’

তহরীনা বিবি বলেন, বঙ্গবন্ধু জেল থেকে বের হওয়ার পর একদিন কুড়িগ্রামে জনসভায় এসেছিলেন। আমি ও আমার স্বামী জনসভায় যেতে দেরি হওয়ায় তিনি মঞ্চেই ওঠেননি। আমরা পৌঁছানোর পর আমার স্বামীকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুকে ফুলবাড়ীতে আসার দাওয়াত দিয়েছিলেন তহরীনা বিবি। তিনি বলেন, আমাদের দাওয়াত পেয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘দেশটা আরেকটু শান্ত হোক তারপর ফুলবাড়ী যাবো। ততদিন তোমরা ওখানকার মানুষ ও দলকে দেখে রাখবে।’

তহরীনা বিবি বলেন, আমার স্বামী মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিলেন। তিনি একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার খবর শুনে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মারা যান। ঘাতকরা তাকেও হত্যা করতে বাড়িতে হামলা করেছিল। ওই সময় তিনি পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বঙ্গবন্ধুর দেয়া চিঠিসহ অন্যান্য উপহার ওই সময় পুড়িয়ে ফেলতে হয়েছে আমাদের।

তহরীনা বিবির মতে, আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তার স্বামী ইউনুস আলী বাচ্চু মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও সম্মানী পেতেন। সন্তানদেরও পিয়ন কিংবা গার্মেন্টসে কাজ করতে হতো না। আজ বঙ্গবন্ধু না থাকায় তারা ফুলবাড়ীর নিভৃত কুরুষা ফেরুষা গ্রামে পড়ে আছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর