হত্যার জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা!

হত্যার জেরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা!

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৮ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২০ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় প্রকাশ্যে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে নিজ দলের এক নেতা ও তার সহযোগীরা। একই সময় তার বড়ভাই বিএনপি কর্মী আল মামুনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে সদর উপজেলার বুজরুক মাঝিড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিএনপি কর্মী সনি হত্যার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে এলাকাবাসী ও পুলিশের দাবি।

নিহত আপেল মাহমুদ ফকির বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউপির পলাশবাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নান ফকিরের ছেলে। তিনি ইউপির বিএনপির কর্মী এবং তার বড়ভাই আহত আল মামুন ওই ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। আহত মামুনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আপেল ও তার বড়ভাই মামুন মাংস ব্যবসায়ী। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল কিনে স্থানীয় পলাশবাড়ি বাজারে মাংস বিক্রি করে। বৃহস্পতিবার সকালে ছাগল বিক্রির কথা বলে ওই দুই ভাইকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী লাহিড়ীপাড়া ইউপির বুজরুক মাঝিড়া গ্রামে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা গোকুল ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা ওই দুই ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দুই ভাইকে কুপিয়ে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আপেল মারা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মামুনকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

গোকুল ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন আহম্মেদ বিপুল জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজ দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গোকুল হল বন্দর এলাকায় মিজানের সহযোগী সনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সনি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন মামুন। ওই হত্যাকাণ্ডের কারণেই মামুন ও তার পরিবারের ওপরে ক্ষিপ্ত ছিলো মিজান ও তার সহযোগীরা।

বগুড়া সদর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, দলীয় কোন্দলের কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আপেলের মরহেদ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডআর