বখতিয়ার মেম্বারকেও হত্যা করে প্রদীপের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক

বখতিয়ার মেম্বারকেও হত্যা করে প্রদীপের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১৯ ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৪:২৪ ৯ আগস্ট ২০২০

প্রদীপ এবং ওসি মর্জিনা। ইনসেটে মেম্বার বখতিয়ার

প্রদীপ এবং ওসি মর্জিনা। ইনসেটে মেম্বার বখতিয়ার

বর্তমানে আলোচিত নাম টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। যার ঘুষ বাণিজ্যের হাতিয়ার ছিল বন্দুকযুদ্ধ। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মৃত্যুর মাত্র সাতদিন আগে কক্সবাজারের উখিয়া থানার ইউপি মেম্বার বখতিয়ারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন ওসি প্রদীপ। এরপর ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক সাজান তিনি।

ঘটনার দিন ভোর থেকে পরদিন রাত পর্যন্ত চলে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক। ২৩ জুলাই ভোরে উখিয়ার রাজাপালং এলাকায় বখতিয়ার মেম্বারের বাসায় ওসি প্রদীপ ও উখিয়া থানার ওসি মর্জিনার ঢোকার দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভিতে।

বখতিয়ার মেম্বারের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার বিরুদ্ধে টেকনাফ বা উখিয়া থানায় কোনো মামলা না থাকলেও বন্দুকযুদ্ধের দিন মাদকের মামলা করান ওসি প্রদীপ। ওই রাতে ১৮ লাখ টাকা ও মূল্যবান মালামালসহ বখতিয়ারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান তিনি। অথচ টাকা ও অনেক মূল্যবান মালামাল সিজার লিস্টে দেখানো হয়নি।

তারা আরো জানান, সেদিন ভোরে প্রদীপ কুমার দাশ ও মর্জিনা আক্তারের নেতৃত্বে অন্তত ৪০-৫০ জন পুলিশ এসে একজন আসামিকে চিনিয়ে দিতে হবে- এমন কথা বলে বখতিয়ার মেম্বারকে নিয়ে যান।

সিসিটিভিতে প্রদীপ এবং ওসি মর্জিনার প্রবেশের দৃশ্য

বখতিয়ার মেম্বারের স্ত্রী শাহীন আক্তার বলেন, বাসায় এসে পুলিশ বলে টেনশন করবেন না একজন আসামিকে চিহ্নিত করতে বখতিয়ার মেম্বারকে নিচ্ছি। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকের কোনো মামলা ছিল না। পুলিশের বাসায় প্রবেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছে ৫-৭ মিনিট। এরপর সারাদিন তার কোনো খোঁজ পাইনি।

বখতিয়ার মেম্বারের পুত্রবধূ বলেন, আমি বলি মহিলা পুলিশ কই? পুরুষরা কেন আমার শাশুড়ির হাত ধরছে। তিনি হজ করে এসেছেন। এ কথা বলার পরই ওসি প্রদীপ আমাকে এমন একটা চড় মারেন জীবনে এরকম মার কারো কাছ থেকে খাইনি।

তিনি আরো বলেন, ওসি প্রদীপ দাশ ১৮ লাখ টাকা নেন। দুই লাখ টাকা নেন উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা।

বখতিয়ার মেম্বারের শ্যালক মাহমুদুল করিম বলেন, পরের দিন আমরা খোঁজাখুঁজি করি। উখিয়া থানায় গেলাম বললো এখানে আনা হয়নি। টেকনাফ থানায় গেলে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। বিকেলে ওসি বলেন, কিছু হবে না, দেখি আমরা কি করতে পারি।

সেদিন সন্ধ্যার পর আবারো বখতিয়ার মেম্বারের বাড়িতে আসেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তার। এ দফায় ভেঙে ফেলা হয় সিসি ক্যামেরা। এরপর চালানো হয় তল্লাশি।

একইদিন রাত ১২টায় খবর ছড়িয়ে পড়ে টেকনাফের হ্নীলায় বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। রাত আড়াইটায় টেকনাফ ভয়েস নামে একটি ফেসবুক পেজে জানানো হয় নিহতদের নাম বখতিয়ার মেম্বার ও মোহাম্মদ তাহের। ভোর সাড়ে ৫টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসে তাদের মরদেহ।

এর আগে ২৩ জুলাই রাতেই একটি মাদক মামলা করা হয় টেকনাফ থানায়। আসামি করা হয় ১৫ জনকে। এরপর অস্ত্র মামলাসহ আরো একটি মামলা হয়। এতে আসামি করা হয় বখতিয়ার মেম্বারের তিন ছেলেকে।

উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, মানব পাচার ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে তালিকায় নাম ছিল বখতিয়ার মেম্বারের। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার নাম ছিল না। তার বাসা রাজাপালং আমার এলাকা বলে থাকতে হয়েছে। ওটা টেকনাফ থানার ব্যাপার। তারা ভালো বলতে পারবে। টাকা নিতে দেখছি। তবে আমি নেইনি। টাকার ব্যাগ দেখেছি ওখানে কত ছিল আমি জানি না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর