বকেয়া না পাওয়ায় জিলবাংলায় অসন্তোষ

বকেয়া না পাওয়ায় জিলবাংলায় অসন্তোষ

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫২ ৯ এপ্রিল ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ জিলবাংলা চিনি কলে কৃষক ও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। চাষিদের নানাভাবে হয়রানি করা যেন মিলটির রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী চাষি ও শ্রমিকদের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সঠিক সময়ে সার পান না চাষিরা। এক বছরের বেশি সময় লাগে এক ফসল ফলাতে। তারপর দুই মাসের বেশি হলো এই মিলের চাষিদের বকেয়া প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা পরিশোধ হয়নি। অনেক পরিশ্রম করে আখচাষ করে সময়মতো টাকা না পেয়ে চাষিরা চরম দুর্দশায় পড়েছেন।

এদিকে করোনার প্রভাবে অনেকেই চরম সংকটে আছেন। তারপর বকেয়া টাকা না পেয়ে বহুকষ্টে দিন যাচ্ছে তাদের।

বাহাদুরাবাদের প্রবীণ আখচাষি আবুল কালাম আজাদ আক্ষেপ করে বলেন, এই চাষ করে যদি আমরা সময়মতো টাকাই না পাই আবাদ করে কি হবে? আমরা অন্য ফসল চাষ করব। মিল শুধু নিজেদের দিক দেখে চাষির কথা ভাবে না।

শুধু চাষিরাই না, মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া দুই কোটি টাকা। গত জানুয়ারি থেকে তারা বেতন ভাতা পান না। ৮৮৭ জন শ্রমিক কয়েক মাস ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে অনেকের।

জিলবাংলা সুগার মিলস ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাইহানুল হক রাইহান বলেন, আমার শ্রমিকরা অনাহারে দিন পার করছেন। তাদের অবস্থা খুব খারাপ, দেখার কেউ নেই। সরকারের টাকার অভাব নেই। কিন্ত মিলের চাষি আর শ্রমিকদের বেলায় টাকা থাকে না। এটি মিলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জিলবাংলা চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ আলী বলেন, সব মিলেই বকেয়া জমে আছে, আমি সব জানি। অনেক সমস্যা নিয়ে চলছে এই মিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে সব কিছু বন্ধ। তাই পেমেন্ট দিতে দেরি হচ্ছে। সরকারি ছুটি শেষ হলে অফিস চালু হলেই সবার বকেয়া পরিশোধ করা হবে। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য তিনি সরকারের প্রণোদনা সহায়তা দাবি করেন।

জিলবাংলা সুগার মিল দেশের অন্যতম প্রধান চিনিশিল্প কারখানা। পাকিস্তান আমলে নির্মিতি এই মিলের সুনাম দেশব্যাপী। চিনির গুণগতমান ভালো হওয়ায় এই মিলের চিনির চাহিদা ব্যাপক। গত মাড়াই সিজনে ৫ হাজার ১৫৩ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন করেছে মিলটি। যথাযথ তদারকি এবং সরকারি সহায়তার অভাবে দিন দিন এই মিল তার সুনাম হারিয়ে ফেলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ