দূরবীনপ্রথম প্রহর

বকশীগঞ্জে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধিডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের বকশীগঞ্জের বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে এখন শুধু হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ আর দিগন্ত ছোঁয়া সরিষার খেত। এ হলুদে মাতোয়ারা মৌমাছির দল। গ্রামের পর গ্রাম হলুদ ফুলের টানে ছুটছে মৌমাছি। উপজেলার বিভিন্ন ইউপিতে সরিষা খেত থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহের জন্য মৌচাষিরাও পার করছেন ব্যস্ত সময়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে অর্ধশতাধিক মৌ-খামারি কয়েক হাজার মৌবাক্স নিয়ে অস্থায়ী বসতি গড়েছেন এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

বকশীগঞ্জ উপজেলার মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। এ সময়ে মাঠে থাকে সরিষার প্রচুর আবাদ। হলুদ ফুলে ফুলে ভরে গেছে বিশাল ফসলের মাঠ। সরিষার ফুলকে কেন্দ্র করে মৌচাষিরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। কারণ সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহের প্রধান মৌসুম এখনই। তাই উপজেলার নীলাক্ষীয়া, মেরুরচর শেখেরচর, সারমারা, কামালপুর ও বাট্টাজোড় এলাকায় মধু সংরক্ষণের জন্য সরিষা ক্ষেতের পাশে ফাঁদ পেতেছেন মৌচাষিরা। তারা বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

খুলনা থেকে আসা খামারী মহিউদ্দিন জানান,দুই শতাধিক মৌবক্স্র রয়েছে তার। যেখান থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় নয়শ কেজি মধু সংগ্রহ করবেন তিনি। প্রতিবাক্সে থেকে ৫ কেজি মধু পাওয়া যাবে।

বগুড়া থেকে আসা মৌখামারি ইয়াকুব আলী জানান, এক সপ্তাহ আগে তিনি ও তার দল তিন শতাধিক মৌবাক্স নিয়ে এখানে এসেছেন। সরিষা ফুল শেষ হওয়া পর্যন্ত এখানে থাকবেন তারা। এখান থেকেই তারা দেড়শ মণ মধু সংগ্রহ করবেন। প্রতি সপ্তাহে একবার করে বক্স থেকে মধু সংগ্রহ করেন। প্রতিবার একটি বক্স থেকে প্রায় ৪/৫ কেজি মধু পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মধু এখান থেকেই ২৫০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

নরসিংদী থেকে আসা মৌচাষি ফারুক হোসেন জানান, মৌসুমে মৌবাক্সগুলো সরিষা খেতের কাছে রাখলে মৌমাছিরা মধু এনে বাক্সে জমা করে। সপ্তাহে একদিন মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি বাক্স থেকে তিন-চার থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত কেজি মধু পাওয়া যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে এ মৌসুমে একটি বক্স থেকে ১০-১৫ কেজি মধু সংগহ্র করা সম্ভব হবে।

অধিকাংশ মৌখামারি জানান, মাঠে সরিষা ফুল ফোটার শুরুতে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। মৌচাষ সৌখিন ও লাভজনক হওয়ায় বাড়তি আয় ও পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটাতে মধু চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

daily-bd-hrch_cat_news-2-10