Alexa ফেসবুক ধন্দে অন্ধ সমাজ!

ফেসবুক ধন্দে অন্ধ সমাজ!

প্রকাশিত: ১৬:৩১ ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

বাসে, ট্রামে, মেট্রো, ট্রেনে উঠেই দেখবেন বেশিরভাগ মানুষের হাতে উঠে আসে বেদ, উপনিষদ, কোরান, বাইবেল, গীতা, ত্রিপিটক। খুলে বসে নিবিষ্ট চিত্তে পাঠ। এত মন দিয়ে জীবনে একটিও বই যে তারা পড়েন নি সে গ্যারান্টি যে কেউ নির্ভয়ে দিয়ে দেবে। 

হাতের মোবাইলে চলছে ফেসবুক। আপনার মনে হতেই পারে যে এ কি বাস্তব, নাকি কল্পরাজ্য? ধন্দটা বোধ হয় আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি এখনও। অথবা ইচ্ছা করেই কাটিয়ে উঠছি না। যখন যেমন ভাবলে সুবিধা, সোশ্যাল মিডিয়াকে আমরা তখন তেমনই ভাবছি। শ্লাঘার বিষয় খুঁজে পেলেই সোশ্যাল মিডিয়াকে বাস্তব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছি। আর অগৌরবের আভাস পেলেই ভাবছি, ও তো কল্পনার পৃথিবী। মাইক ফুঁকে প্রচার নেই। একেবারে নিঃশব্দে প্রচার চলছে ফেসবুকে। শুধু দিনে নয় রাতেও ফেসবুকে যেন জেগে থাকে শহর।

মার্ক জুকারবার্গ। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ। জন্মেছিলেন আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।বর্তমানে তিনি বিশ্বে বহুলভাবে পরিচিতদের মাঝে একটি অন্যতম নাম। তিনি ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা। তার বয়স তেমন বেশি নয়। জন্মেছিলেন ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিলে ফেসবুক কোম্পানীর চেয়ারপারসন এবং প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবমতে তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারী ২০০ কোটির উপরে। ইন্টারনেটের আর কোনো সামাজিক মাধ্যম এত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। ফেসবুকের যখন প্রথম শুরু হয়েছিল তখন শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ ছিলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীক। তখন হার্ভাডের ছাত্র-ছাত্রীরাই শুধু এটির ব্যবহার করতেন। প্রথমদিকে নাম ছিলো "দ্য ফটো এড্রেস বুক"। এটি ছিলো অনেকটা 'স্টুডেন্টস ডাইরেক্টরি'র মতো।এতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নাম, ফোন নাম্বার, তাদের বন্ধুদের নাম, পাঠরত বিভাগের নাম ইত্যাদি লিখে রাখতে পারতেন। ছাত্র-ছাত্রীরা এর নাম রেখেছিলো 'দ্য ফেসবুক'।এবং পরে 'দ্য' বাদ দিয়ে এর নাম হয়ে যায় "ফেসবুক"। সময়টা ছিলো ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। হার্ভাডের এক ডরমিটরীতে তিনি প্রথম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। পরে যখন ফেসবুক অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়া হয় তখন ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে ফেসবুকের অফিস স্থানান্তর করা হয়। এবং তারপর থেকে ফেসবুকের ইতিহাস বিজেতার ইতিহাস, সাফল্যযুক্ত ধাবমানতার ইতিহাস! এ যেন আসলাম, দেখলাম, জয় করলাম এমন একটি ভাব! ২০০৭ মালের মধ্যে জুকারবার্গ আর্থিক বিত্তের পরিমাপে পরিগণিত হয়ে যান "বিলিয়নেয়ারে"। ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী এবং অর্থবিত্তসম্পন্ন ১০০ জনের মধ্যে নিজের স্থান করে নেন। দি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক”(২০০৯) সিনেমাটি যারা দেখেছেন তারা ফেসবুক তৈরি হবার গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়ে থাকবেন।

প্রায়ই দেখা যায় আমাদের বন্ধুরা বাস্তবে একরকম আর ফেসবুকে যে একেবারে অন্য মানুষ। আমরা নিজেরাও সামাজিক যোগাযগের এই মাধ্যমটির সামনে বসলেই কেমন যেন অন্য এক মানুষে পরিণত হই। কিন্তু কেন ঘটে এমন?

মার্কিন বিজ্ঞানী উইলক্স এবং স্টিফেন একটি জরিপ করেন। সেখানে দুইদল মানুষের উপর গবেষণা করে তারা দেখেন, ফেসবুকে আমাদের পোস্টে বা ছবিতে লাইক এবং কমেন্ট আমাদের নিজেদের সম্পর্কে আমাদেরই দৃষ্টিভঙ্গী বদলে দেয়। আমরা একটা ইমেজ ধরে রাখতে চাই দূরের মানুষদের কাছে, বোঝাতে চাই আমরা এমন। ফেসবুকে আমরা চাইলে শুধু আমাদের ভালো দিক, পজেটিভ বিষয়, সাফল্য তুলে ধরতে পারি। আমরা যখন বন্ধুদের সঙ্গে সামনাসামনি আড্ডা দেই তখন কখনো আমরা হাসাহাসি করি, কখনো বিরক্ত হই, কখনো রেগে যাই কখনোবা মন খারাপ করে ফেলি। কিন্তু ফেসবুকে আমরা চাইলে আমাদের সবকয়টি আবেগের প্রকাশই লুকিয়ে রাখতে পারি। তথ্য দিতে পারি নিজের ইচ্ছামত।

মানুষ সবসময় নিজের সম্পর্কে ভাল কথা শুনতে পছন্দ করেন। নিজের প্রশংসা শুনতে ভালোবাসেন। তাই নিজের প্রকৃত ছবি না দিয়ে আমরা সে ছবি নানান এপস ব্যবহার করে এডিট করে আরও সুন্দর করে প্রকাশ করি। নিজেদের ভালো থাকার এমনকি নিজেই নিজের প্রশংসা করে পোস্ট দিই। এটা আর কিছুই নয় স্বীকৃতি চাওয়ার মানসিকতা। সামনাসামনি যে আপনি হয়ত সহজে কারও সাথে উচ্চস্বরে কথাও বলেন না সেই আপনিই আবার অনলাইনে দ্রুতই প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করে বসেন। ফেসবুকে লেখায় লেখায় ঝগড়া করা, রাগ-ঘৃণা প্রকাশ করা খুবই সহজ। এজন্যই আমরা দেখি, সামাজিক-রাজনৈতিক যে কোন বিতর্কিত বিষয়ে আলোড়িত হয়ে ওঠে ফেসবুক। কিন্তু সেই একই মানুষ অনলাইনের বাইরে যখন সরাসরি সে বিষয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে বলা হয় তখন পিছিয়ে পড়েন। নানান রকম ছবি দিয়ে, মজার মজার স্ট্যাটাস দিয়ে আমরা আসলে আমাদের বন্ধুদের ইম্প্রেস করতে চাই। সরাসরি আমরা নিজের সম্পর্কে এত কথা বলার সুযোগ পাই না। আড্ডায়, পার্টিতে নিজেকে এত ভাবে প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু ফেসবুকে প্রতিদিন নিত্যনতুন ছবি দিয়ে এবং আরও নানান উপায়ে নিজের গুণাবলি প্রকাশ করা যায়। সেটা করতে করতে আমরা খেয়ালই করি না আমরা যা প্রকাশ করছি সেটা আসলে আমাদের নিজেদের প্রকৃত ছবি নয়।

কখনো খেয়াল করে দেখেছেন দিনের কতটা সময় আপনি ফেসবুকে কাটান? ফেসবুক কি আপনার মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি করেছে? মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আসক্তি শব্দটাই তো খারাপ। এখন যেটা হচ্ছে অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে পরিবার কিংবা কাছের মানুষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর থেকে খারাপ দিক আর কী হতে পারে। ফেসবুকে আসক্তির কারণে দেখা যায় চাকরিতে গেলে সময় দিতে চায় না, আচার-আচরণের পরিবর্তন আসে, ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন হয়। এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পরিবারকে কার্যকর সময় দিতে পারে না। বর্তমানে ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের অপরিচিত কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যে কারণে ছেলেমেয়েরা সবসময় ওই ঘোরের মধ্যে থাকে। আর এটা এমন একটা মাধ্যম যেখানে বোঝার উপায় থাকে না যে আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন। যদিও অন্যান্য মাধ্যম আছে যেমন ভিডিওয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তবুও ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড যেহেতু ঝুঁকি তো থেকেই যায়।
কিন্তু এর উল্টোটাও তো সত্যি? আমাদের সারা দিন খাওয়া-দাওয়া করার পর সেই এনার্জিটা ব্যয় করতে হবে তো। কিন্তু ছেলেমেয়েরা সেটা ব্যয় করতে পারছে না। হাটেমাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরের খোলা পরিবেশে আড্ডায় মেতে উঠতে পারছে না।

বন্ধু, আড্ডা, খেলাধুলা এমনকি পড়ালেখা থেকে শুরু করে সবকিছুই ঘরোয়াভাবে করতে হচ্ছে।  অনেকাংশে সমাজ তাদের সেই পরিবেশ দিতে পারছে না। সেই সঙ্গে পরিবার থেকে যতটুকু পাওয়ার কথা সেটা পাচ্ছে না। তখন দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা পরিচিত-অপরিচিত অনেক নতুন বন্ধু খুঁজে নেয়। তখন তারা স্বাভাবিক বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে যে কারণে নেগেটিভ জিনিসিটা বেশি হয়। 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবন নিয়ে গবেষণা করেছে ওয়াশিংটন ডিসির পিউ রিসার্চ সেন্টার। তাদের মতে, ৪৪ শতাংশ মানুষই দিনে অন্তত একবার তার পরিচিতদের পোস্টে ‘লাইক’ দিয়ে থাকে। ২৯ শতাংশ মানুষ এ কাজটা দিনে কয়েকবার করে থাকে। আসলে ফেসবুকে মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ‘লাইক’ অপশন। ‘সাইকোলজি টুডে’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গবেষকদের অভিমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে যারা অধিক সময় কাটায়, ভার্চ্যুয়াল জগতে মানুষের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে তাদের একাত্মতা প্রকাশের শক্তি অনেক বেশি। ফেসবুকে কোনো বিষয়ে কিছু বলার থাকলে আমরা মন্তব্য করে থাকি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, লাইকের চেয়ে মন্তব্য কিংবা টেক্সটের যোগাযোগ ক্ষমতা বেশি। অর্থাৎ দশটা লাইকের চেয়ে একটি ভালো মন্তব্য আপনাকে ফেসবুক কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ করে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফেসবুকে যেকোনো ধরনের স্ট্যাটাস আমাদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। স্ট্যাটাস দিয়ে আমরা ভার্চ্যুয়াল জগতে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করে থাকি। গবেষকদের মতে, ফেসবুকে যারা বেশি বেশি স্ট্যাটাস দিয়ে থাকে, তারা কম একাকিত্বে ভুগে থাকে।

'দি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক' নামে ২০১০ সালে যে চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছিল, সেখানে মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রের একটি সংলাপ ছিল- "স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে যায়, কারণ তাদের বন্ধুরা অনলাইনে। তাই একজন সরে পড়লে, অন্যরাও সরে পড়ে।" ফেসবুকের ব্যাপারে ওই বাক্যই ধীরে ধীরে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। অন্তত যুক্তরাষ্ট্রে। সামাজিক যোগাযোগের জন্য ফেসবুক এখন আর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম নয়। তালিকার প্রথম তিনটির মধ্যেও ফেসবুক এখন আর নেই। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, তরুণরা প্রচণ্ডভাবে ইউটিউবে ঝুঁকে পড়ছে। ৮৫ শতাংশই বলছে, তারা ইউটিউব ব্যবহার করে। তারপরই রয়েছে ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাট। ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ বলছেন, ২০১৭ সালের শেষ তিন মাসে ফেসবুকে কাটানোর সময় ৫ কোটি ঘণ্টা কমেছে।

ফেসবুকে বিভিন্ন বয়সীদের গতিবিধি, বিশেষ করে তাদের বাবা-মা এবং গুরুজনরা অ্যাকাউন্ট খোলায় অনেক তরুণ-তরুণী এই প্লাটফর্ম ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ- এসব প্ল্যাটফর্মে ছবি এবং ভিডিওর প্রাধান্য। তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারালেও বয়স্কদের মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে নতুন চার কোটি ৮০ লাখ মানুষ প্রতিদিন ফেসবুকে ঢুকছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের তথ্য চুরির অভিযোগ ওঠে। ফেসবুকের ওই তথ্য নিয়ে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালায় যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সংসদীয় কমিটি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। এছাড়া ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ঘটনাটি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই ফেসবুককে বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে হ্যাশট্যাগ ডিলিট ফেসবুক প্রচারণাও শুরু করেছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারেরও ব্যাপক দরপতন শুরু হয়েছে।

এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ পুঁইডাটার চচ্চড়ি খাওয়ার বা বাড়ির পাশের খালের ধার ধরে হাঁটার ছবি সচরাচর দেন না। সকলেই দেখাতে চান ‘আমি কত ভাল আছি’। আর আমার চেয়ে অন্যরা বেশি ভাল আছে,— এমন ভাবনা প্রবণতা এমনিতেই মানুষের যথেষ্ট। তার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতেগরম প্রমাণ দেখলে বেশি হতাশ হচ্ছেন তাঁরা। দেখা যাচ্ছে, যে মানুষ যত বেশি সোশ্যাল  মিডিয়ায় আসক্ত তার দুর্বলতা, হতাশা এ সব বেশি। কাজেই তরুণ প্রজন্মের ফেসবুককে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। এক্ষেত্রে একটা জিনিষ জানতে হবে তা হল ইউ টিউব বিভিন্ন ছবি বা গান বা ঘটনা দেখায়, ইনস্টাগ্রাম ছবি দেখায় আর স্ন্যাপ চ্যাট বাক্য বিনিময় করায়। খুব একটা ভাবায় না। কাজেই চিন্তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা এদের নেই। তাই এরা মন্দের ভালো। অবশ্য একথাও সত্যি যে মানুষের ভাবনাকে ইচ্ছেমত নিজস্ব খাতে বইয়ে নেয়ার ক্ষমতা খুব বেশিদিন কারোরই নেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর