Alexa ফেসবুকের কল্যাণে ৪৮ বছর পর বাবাকে খুঁজে পেল সন্তানরা 

ফেসবুকের কল্যাণে ৪৮ বছর পর বাবাকে খুঁজে পেল সন্তানরা 

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৩৫ ১৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৯:৩৮ ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের বিয়ানীবাজারের বেজগ্রামে হাবিবুর রহমানের বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই চার সন্তানের জনক হাবিবুর ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন। এরপর কেটে যায় ৪৮ বছর। 

তখন তার ঘরে চার সন্তান। এরমধ্যে ছোট ছেলের বয়স ছিল মাত্র ৪০ দিন। সেই ছেলে এখন বড় হয়েছে। বিয়ে হয়েছে, আছে দুই ছেলেও। এছাড়া তার বড় ভাইদের ছেলে-মেয়ে আছে। সেই মেয়েরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে দাদার হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী শুনেছে। শুনেছে পরিবারে আসা হাবিবুর রহমানের নাতীর বউরাও।

হাবিবুর রহমানের বয়স এখন ৭৮ বছর। তার বড় ছেলের বউই প্রথমে তাকে শনাক্ত করেন। ভিডিও দেখার পর তিনি পরিবারের অপর সদস্যদের দেখান। পরে তারা ছুটে যান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

হাবিবুর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ব্যবসার কাজে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাদের বাবা। এরপর তাদের পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খুঁজেছেন। বাবার অপেক্ষায় ২০০০ সালে তাদের মা'ও মারা যান। তার চার ভাইয়ের দু'জন প্রবাসে থাকেন। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ভিডিও দেখে তারা বাবাকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে খুঁজে পান।

বাবাকে ফিরে পাওয়ায় আবেগ-আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, এটি রীতিমতো অবিশ্বাস্য। কারণ ৪৮ বছর পরে তাকে আমরা পেয়েছি। আমরা বিশ্বাস করতেই পারছি না।

জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন মাজারে রাত কাটাতেন হাবিবুর। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি মৌলভীবাজারের হযরত শাহাব উদ্দিন মাজারে আসেন, সেখানেই পরিচয় হয় রায়শ্রী গ্রামের রাজিয়ার সঙ্গে। তখন থেকেই তিনি তার সেবা করছেন। ২৩ দিন আগে বিছানা থেকে পড়ে হাত ভেঙে গেলে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন আগে হাবিবুর রহমানের ভাঙ্গা হাতে ইনফেকশন দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পরে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় অপারেশন করাতে পারেননি। আর এই বিষয়টি হাবিবুর রহমান পাশের বেডের একজনের সঙ্গে শেয়ার করেন। পরে ওই ব্যক্তি হাবিবুর রহমানের সামগ্রিক বিষয় জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। এ ভিডিও দেখেন আমেরিকা প্রবাসী হাবিবুর রহমানের বড় ছেলের ছেলের বউ। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের দেখালে পরিবারের সদস্য অনুমান করেন তিনিই হারিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান।

ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজিয়া বেগম বলেন, ২৫ বছর আগে মাজারে তার সঙ্গে দেখা হয়। আমি তাকে সম্মান করে পীর সাহেব বলি ডাকি। তখন থেকেই আমি তার দেখাশুনা করে আসছিলাম।

হাবিবুর রহমানের নাতী কেফায়েত বললেন, এতো বছর পর দাদাকে পেয়ে খুব খুশি। ছোট বেলা থেকেই বাবা-চাচাদের কাছে দাদার গল্প শুনতাম। তখন মনে আশা রেখেছিলাম একদিন দাদাকে ফিরে পাবো। আল্লাহ সেই আশা পূরণ করেছেন। তাই দাদাকে ফিরে পেয়েছি। এজন্য তিনি রাজিয়া বেগম এবং ভিডিও আপলোডকারীকেও ধন্যবাদ জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস