ফেল থেকে জিপিএ-৫: এই ভুলের দায় কার?  

ফল পুনঃনিরীক্ষা

ফেল থেকে জিপিএ-৫: এই ভুলের দায় কার?  

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩০ ৩ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। এতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫ জন, এর মধ্যে ফেল থেকে পেয়েছে ৬ জন!

ফেল থেকে জিপিএ-৫

ঢাকা বোর্ডে ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। যশোর বোর্ডে একজন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২ জন ও দিনাজপুরে ২ জন। অথচ প্রথম ফলে এরা ফেল করেছিল।

এছাড়া ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ২ হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫ জন। বাকিদের জিপিএ বেড়েছে। এদিকে দাখিলে ফেল থেকে পাস ৪৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮ শিক্ষার্থী। 

কোন বোর্ডে কত  

ফেল থেকে পাস করেছে ঢাকা বোর্ডে ১৪২ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ জন, বরিশালে ৪২ জন, সিলেটে ৩৩ জন, যশোরে ১৩১ জন, চট্টগ্রামে ৮০, দিনাজপুরে ৫৫ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ৪৪ জন। 

এই ভুলের দায় কার?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে শিক্ষা বোর্ডের অবহেলা এবং শিক্ষকদের উদাসীনতার শিকার হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক পরীক্ষার্থী। এদের কারণে প্রতি বছরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভুল ফল মূল্যায়নের শিকার হচ্ছে। প্রথম দফায় অনেকে ফেল বা কম জিপিএ পাচ্ছে। পরে ফল পুনঃনিরীক্ষায় ফেল থেকে পাস করছে, জিপিএ-৫ পাচ্ছে।  

পরীক্ষা ও ফলকেন্দ্রিক এসব ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে এসব নিয়ে ক্ষোভ আছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, পরীক্ষার সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবনের সুখ-দুঃখ জড়িত। অবহেলা বা উদাসীনতার সঙ্গে পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাজ করা ঘোরতর অন্যায়। অনেক ভুলকে ‘মানবিক’ হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু কিছু ভুল ক্ষমার অযোগ্য। আমরা কঠিন ভুলের ক্ষেত্রে কঠোর হয়ে থাকি। এ নিয়ে একটি কমিটি আছে, যারা ভুলগুলো পর্যালোচনা করে থাকে। এবারের পুনঃনিরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থীর ফল উন্নয়ন হয়েছে, তাদের কেস পর্যালোচনা করে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ শেষে উপযুক্ত শাস্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুলভ্রান্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে খাতা দেখা। বোর্ড থেকে দেয়া খাতা ১৪ দিনের মধ্যে জমা দিতে হয়। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৩০০ খাতা ঠিকমতো মূল্যায়ন সম্ভব। কিন্তু ৫০০ থেকে ৭০০ খাতা দেয়া হয়। এতেই ভুলের ঘটনা ঘটে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়নও হয় না। এর খেসারত দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। 

তবে একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের যে সময় দেয়া হয় তা পর্যাপ্ত। কিন্তু তারা খাতা নিয়ে ফেলে রাখেন। বোর্ড থেকে তাগিদ দেয়ার পর তারা খাতা মূল্যায়নে বসেন। সুতরাং ভুলের দায় পরীক্ষকদের।

 এভাবেই সংশ্লিষ্টরা একে অন্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে আর এর মাশুল গুনছে শিক্ষার্থীরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ